Thursday, March 21, 2019

মেট্রো ডায়েরি - ৪


আজ মেট্রোতে সাধারণ দিনের তুলনায় একটু ভিড় কম থাকায়, বসার জায়গা পেয়ে গেলাম। বসেই মোবাইল পকেট থেকে বের করে সোশাল নেটওয়ার্কে হাত বোলাতে লাগলাম, এ এমন এক স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে যে কি আর বলবো, ঠিক আগে দেখতাম কেউ কেউ বাস বা মেট্রো তে উঠেই হনুমান চালিশার ছোট বই বের করে পাঠ করতো, অনেকটা তেমন, বার বার একই ছবি একই খবর উপর নিচে করতে থাকা, যতক্ষণ নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। যাইহোক, কিছুক্ষন বাদে মোবাইল পকেটে রেখে, বই বেরকরলাম। পড়ার ফাঁকে উল্টোদিকের সিট্ এ চোখ পড়তেই আঁতকে উঠলাম, একটি কম বয়সী মেয়ে বসে আছে, তার সামনে কেউ একজন দাঁড়িয়ে থাকায় তার হাত টা শুধু দেখতে পাচ্ছিলাম । একটু ঝাকুনিতে তার গলা ও মুখের কিছুটা গোচরে এলো। এ কি? এই অবস্থায় কেউ বাইরে আসে? গত সপ্তাহে নার্সিংহোমে এমন এ একজন কে দেখেছিলাম, জন্ডিসের রুগী। সারা শরীর হলুদ হয়ে গেছে , মেয়েটির ও একই অবস্থা। এই সময় তো একদম বেরহওয়া উচিত নয়।  কি এমন অসুবিধা যে এই পরিস্থিতিতেও কাজে যেতে হবে। মানুষের জীবনে কত বাধ্য বাধকতা থাকে আমরা তার কতটুকু জানি। তার পরিস্থিতির কথা ভেবে কষ্টই পাচ্ছিলাম, মনে মনে তার সুস্থতার কামনা করছিলাম। কয়েকটা স্টেশন পর মেয়েটি উঠে আমার দিকের দরজার কাছে এগিয়ে গেলো, পরের স্টেশন এ নামার জন্যে। এখন কাছে থেকে দেখতে পেলাম মেয়েটি কে।
একদম ভুলে গেছিলাম যে গতকাল হোলি ছিল।

অণুগল্প

Friday, December 7, 2018

সে আজ আঠেরোর প্রাপ্তবয়স্ক,
আগের মতো উচ্ছলতা,
চঞ্চলতা, অবুঝতা নেই।
শান্ত, ধীর, স্থির।
সে আজ আঠেরো।
অনেক ঝড় জল পেরিয়ে,
অনেক মান অভিমানের
গন্ডি পেরিয়ে সে আজ আঠেরো।
এখনো অনেক পথ বাকি
মসৃন বা আঁকাবাঁকা যাই হোক।
সাতপাকে বাঁধার আজ সাত।
হাতে হাত আরও অনেক দিন অনেক রাত।





Friday, November 23, 2018

টিকে থাকার লড়াই এ
নতুন নতুন শেকড় গজায়,
আঁকড়ে ধরতে চায় মাটি
আরো শক্ত করে।
শ্যাওলা ধরা পুরোনো শেকড়
পৌঁছতে চায় আরো গভীরে।
বাঁধা ঠেলে যত এগোয়, 
পাতা আরো ঘন সবুজ হয়। 
সহজ নয় আকাশ ছোঁয়া
যন্ত্রনা, ব্যর্থতা সব
অন্ধকারে মাটির গভীরে রয়।





Saturday, November 3, 2018


মেট্রো ডায়েরি - ২

মেট্রোতে আমার পাশে বসা
ছেলেটি রেগে ফোনে বললো
আন্দামানের সব ছবি আগে ফোন থেকে ডিলিট করো
তারপর কথা বলবো।
ওপার থেকে কি উত্তর এলো জানি না
ছেলে টি আরও রেগে গিয়ে বললো
আমি বলছি ও নিয়ে কথা হবে না,
যদি আন্দামানের সব ছবি ডিলিট করো
তাহলেই কথা বলবো, না হলে ফোন করো না।
খট, ফোনে কেটে দিয়ে এয়ার প্লাগ কানে দিয়ে গান শুনতে লাগলো।

কিছুক্ষন বাদে আবার ফোন,
ডিলিট করো নি? না আমার, ফ্যামিলির কারো ছবি চাই না
কি অসুবিধা ছবি ডিলিট করতে? করলে তবেই কথা হবে।
আবার খট। এয়ার প্লাগ কানে আবার মন গানে।

আবার ফোন
কি সব ডিলিট করে দিয়েছো ?
সব ? ঠিক বলছো?
আমি তোমায় বিশ্বাস করি না।
খট।
এয়ার প্লাগ কানে আবার মন গানে।

ততক্ষনে আমার স্টেশন এসে গেছে,
এই বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলায় দুলতে দুলতে
অফিস চললাম।


Monday, October 8, 2018

মন টা কেমন সুতো কাটা ঘুড়ির মতো
গোত্তা খেতে খেতে দিশেহারা হয়ে
এদিক থেকে ওদিক ঘুরে বেড়ায়।

বাগে আনতে কতবার জুড়েছি সুতো,
বার বার ছিড়েছে,
খোঁচা খেয়ে ছিন্ন ভিন্ন হয়েছে কতবার। 

কখনো মগডালে আটকা পরে
প্রাণপণ চেষ্টা করেছে নিজেকে ছাড়াবার,
আবার নামিয়ে এনে জুড়েছি সুতো।

এই জোড়া আর ছেঁড়ার খেলায়
সময় বয়ে যায়,
শক্ত হয় সুতোর বাঁধন। 


   


Friday, September 21, 2018

পঞ্চাশ তো ছুঁই ছুঁই,
তবুও ছেলে মানুষি গেলো না,
প্রজাপতি ধরতে যাও
বৃষ্টি হলে ভিজতে  চাও,
গাছের ডালে দোল খাও।

এখনো ছেলে মানুষি গেলো না,
লজ্জাবতীর পাতা ছুঁয়ে দেখো,
আম পাতার বাঁশি,
আর চোরকাঁটার গান,
কুচ ফলে চোখ,
কত দিন আর এসব।

অনেক হয়েছে এবার স্যুট বুট পড়ো,
চুলটা পাট করো,
অফিস ব্যাগ টা নাও,
খাঁচার মধ্যে যাও।










Wednesday, July 25, 2018

বহুদিন হলো স্পার্ক প্লাগের দিকে নজর দেওয়া হয় নি,
ময়লা জমে জমে কেমন অচল হতে বসেছে। 
মাটিতে বুক ঠেকিয়ে কেমন সরীসৃপের মতো চলছে,
একরকম জোর করে টেনে নিয়ে যেতে হচ্ছে।
সময় নেই, সময় নেই করে দিন চলে যায়
যে কোনো দিন মুখ থুবড়ে পড়বে, ব্রহ্ম মুহূর্তের অপেক্ষায়। 
এখন এই মুহূর্তে দরকার, শুধু একটা স্পার্ক,
আবার  মাথা উঁচু করে ছুট দেবে আলোর পথে।