Wednesday, December 30, 2015

তরতাজা 
শুভাশীষ মুন্সি 

একটা ছোট আলতার শিশি, একটা পুরনো রংয়ের বালতি তে কিছুটা জল। একটু আলতা জলে গুলিয়ে নিন, তারপর পাবদা আর টেংরা মাছ গুলো ধুয়ে তুলে নিন।  দেখবেন একদম তরতাজা মাছ, যেন সদ্য জল থেকে উঠিয়ে আনা হয়েছে, ঠিক যেমন পুরনো সাদা জামা নিল জলে ধুলে সাদা ধবধবে হয়।
প্রতি শনিবারের মত সেদিন ও মাছ কিনতে সি আর পার্ক এ গিয়ে এই অভিজ্ঞতা।  মাছের দোকানের পশে ছেলেটি সেইরকম কাজ টি করছে, সব মাছগুলো আলতা জলে ধুয়ে তুলছে।  জানতে চাইলাম কেম এমন করছ? এ তো ক্ষতিকারক। 
- দাদা এ তো আপনাদের মত লোকেরই চাহিদা, এমনি রেখে দিলে কেউ কিনবে না। একটু চুবিয়ে নিন দেখুন কেমন তরতাজা লাগে আর চটপট বিক্রি হয়।  
- সব মাছই এমন করে ধুয়ে বিক্রি করো ? 
- না, তবে পাবদা আর টেংরা তো অবশ্যই, আর যখন যেমন দরকার হয় ।
ভেবেছিলাম বাড়িতে লোক আসবে বেশ বড় বড় পাবদা মাছের সরসে বাটা করতে বলব।  
হলো না, কাটা রুই নিয়ে ফিরতে হলো, কারণ চোখে  দেখার পর অন্তত এক দিনের জন্যে পাবদা বাদ দিলাম।  পরে ভুলে গেলে দেখা যাবে। জানিনা রুই মাছে কি মেশানো। তবে এমন দিন আসলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না যেদিন শরীরের কোথাও কেটে গেলে রক্তর বদলে আলতা বের হবে? 
ডাক্তার বলবে, রুগীর অবস্থা ভালো নয় দু বোতল আলতা নিয়ে আসুন।  

Friday, December 25, 2015

ছোটো বেলায় গ্রামে কেটেছে, তখন একমাত্র ভরসা ছিল রেডিও। টিভি, ইন্টারনেট ফোন কিছুই ছিল না। জানার পরিধি ও ছিল সীমিত। হাটে মাঠে ঘোরা, ঘুরি ওড়ানো, পিট্টু, ডাঙ্গুলি খেলাই ছিল বিনোদন।  সিনেমা দেখতে হলে যেতে হত শহরে।  খ্রীষ্টমাস মানে বড়দিন  জানতাম। কেউ বলে নি সেদিন সান্টা এসে উপহার দিয়ে যায়। তাই তা উত্সব হিসেবে জীবনে আসে নি। অনেক বড় হয়ে কলকাতায় দেখলাম খ্রীষ্টমাস এর উত্সব, আলোয় ঝলমল পার্ক স্ট্রিট। কিন্তু সমস্যা একটাই, সান্টার দেখা নেই।  মনের মধ্যে পালন করি আশা উপহার পাবই কোনো একদিন। অনেক দিন কেটে গেছে। জীবন, শহর দুটোই বদলেছে। উপহার পেলাম, কিন্তু খ্রীষ্টমাস এর এক মাস পর, পঁচিশে জানুয়ারী। একটা মোহর। এক মাস পর এই দিনে সে পা দেবে চোদ্দ তে। এখন আমার স্বপ্ন, আশা, আনন্দ, দুক্ষ সব তাকেই ঘিরে। ঈশ্বর যেন তার মঙ্গল করে।   

Wednesday, December 23, 2015

'দরকার চার'

আর মাত্র দু বল বাকি, রান দরকার চার। ধীরাজের গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। পা কাঁপছে। ওর হাতে পুরো টিমের ভাগ্য নির্ভর করছে। মনে মনে রাগ হচ্ছে জিতু ভাইয়ের উপর।  কেন যে জোর করে নামালো। যে কোনো দিন ক্রিকেট খেলে নি সে কি করে একটা ম্যাচ জিতিয়ে দেবে? একজন খেলোয়ার আসেনি বলেই এই বিপত্তি।  ও তো এসেছিলো খেলা দেখতে। শেষে নিজেই যে নেমে পড়বে সেটা ভাবতে পারে নি। শেষ ওভার বাকি রান দরকার ছিলো পাঁচ। জিতু ব্যাটিং এ।  প্রথম বল গুগলি।  জিতু এক রান নিয়ে দিল ছুট। দরকার চার।  ধিরাজ তিনটে  বল পর পর মিস করলো। ব্যাটে বলে সংযোগ ঘটলো না।  পঞ্চম বলের জন্যে বোলার তৈরী হচ্ছে।  জিতু এগিয়ে গেল ধীরাজ এর দিকে।  ওকে জড়িয়ে ধরে  কিছু বলছে। এক, দুই, তিন মিনিট কাটল এই ভাবে। কেউ জানে না কি কথা হলো।  ধীরাজ ফিরে গেল নিজের জায়গায়। বোলার ছুটে এলো। ঝড়ের বেগে ব্যাট চালিয়ে ধীরাজ বসে পড়ল মাঠে। চোখ বন্ধ।  চারিদিকে উল্লাস, বল মাঠের বাইরে।  আম্প্যার হাত  নেরে জানালো চার রান।

Friday, December 18, 2015

কাজের জন্য বেশ কিছু দিন ধরে অনেক রাত হচ্ছে ঘুমোতে যেতে। আজ কিছু না থাকাতে ভাবলাম এত দিনের ঘুম টা আজ পুষিয়ে নেব। এখানে ডেঙ্গু মশার খুব উপদ্রব তাই মশারি টাঙিয়ে শোয়ার অভ্যাস আমাদের, আর টাঙানোর দযিত্বটা আমার উপর। আজ আর ইচ্ছে করলো না।  দশটার মধ্যে বিছিনায় লেপের মধ্যে পাচার করে দিলাম নিজেকে।  একই দিল্লীর শীত তারপর এতদিনের আধা ঘুম।  শোয়ার সাথে সাথে ঘুমের দেশে পাড়ি দিলাম।
কেমন এক অস্বস্থিতে ঘুম ভেঙ্গে গেল।  একটু গরম গরম লাগছে। বালিশের তলা থেকে মোবাইল টা বের করে দেখলাম রাত তিনটে বাজে। মোবাইল রেখে পাস ফিরে শুলাম।  কানের কাছে পো পো পন পন শব্দ। হাথ দিয়ে তাড়ানোর চেষ্টা করলাম। সে কি যায়। বার বার ফিরে আসে। হবে না, খিদে পেয়েছে যে।
সে এক জ্বালা।  মাথা ঢাকলে গরম লাগে, সরালে তার গান।  বেশি নয়, একটাই এত বিরক্ত করতে পারে ভাবা যায় না। উঠে বসে হাথ পা ছুড়ে কত তাড়াবার চেষ্টা করলাম, মারতে চেষ্টা করলাম, পারলাম না।  মোবাইল বের করে দেখলাম সরে চারটে বাজে।  ঘুম তো গেল। এমনি শুয়ে থাকলাম। সে আর এলো না।  একটা পুরনো শায়েরীর আদলে বলে উঠলাম, "ঘুম এলো তো তুমি এলে, কিন্তু তুমি আসাতে না ঘুম এলো না তুমি এলে"।
ঠিক করলাম মশারী ছাড়া আর নয়।

Sunday, December 13, 2015

আমি আছি, অথচ নেই,
এই থাকা না থাকার মাঝে যে স্মুক্ষ রেখা
কখনো এপারে কখনো ওপারে রই।
বুঝিনা আমি ভালো কি মন্দ,
জীবনের সপ্ত সুর কখনো সুরে আবার
কখনো বেসুরো বাজাই।
কি ঠিক আর কি ভুল আজও বুঝতে পারিনা
তাই খুশিতে চোখে জল আসে,
আর যন্ত্রনায় আনন্দ পাই।
সিড়ি একটাই, উপরে বা নিচে যাবার,
কখনো আকাশ ছুই, আবার কখনো
অতল গভীরে তলিয়ে যাই।
বুঝিনা আমি একা না অনেক তাই
সহস্রের মাঝে নিঃসঙ্গ আর 
নিঃসঙ্গতার মাঝে পরিপূর্ণ রই।

   

Wednesday, December 9, 2015

শিস 

সন্ধ্যে নামছে, মনসুর আলী একটা হিন্দি গানের কলি শিস দিতে দিতে মেঠো রাস্তা দিয়ে গরু গুলো কে বাড়ির পথে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিনের এই কাজ।  হরিয়ানার এক প্রত্যন্ত গ্রামে সকাল থেকে সন্ধ্যা এইভাবেই দিন কাটে মনসুরের। স্বপ্ন দেখে মনসুর। গ্রামের লোক স্বপ্ন দেখায়।  সে শিস দিয়ে সব কিছু নকল করতে পারে গান, পাখির ডাক আরো কত কি।  সবাই বলে মনসুর একদিন অনেক বড় হবে, নাম করবে।  তাকে সবাই বম্বে যেতে বলে। বলে গানের জগতে অনেক সুযোগ, অনেক প্লেব্যাকএ শিস ব্যবহার হয়, মনসুর ঠিক কাজ পেয়ে যাবে । মনসুর কষ্ট করে, বাড়ির লোক কে রাজি করে দুটো গরু বিক্রি করে দিল্লির পথে পাড়ি দেয়, সেখান থেকে কাজ করে কিছু টাকা জমিয়ে বম্বে পাড়ি দেবে ।

দিল্লির আসেপাশের বেশিরভাগ জঙ্গল কেটে দিয়ে সোসাইটি তৈরী  হওয়াতে জঙ্গলের সব বাঁদরের দল লোকালয়ে এসে অত্যাচার করে, ঘরে ঢুকে যায়, লোক কে কামড়ে দেয়, এলাকার লোক নাজেহাল। মনসুর একটা বাড়ির ছাদের ঘরে আশ্রয় পায়।  সকাল বিকেল কাজের খোজ করে।  এমনই এক দিন সকালে মনসুরের ঘরে বাঁদর ঢুকে যায়।  মনসুরের অস্ত্র শিস।  সে এমন শব্দ বের করে যে বাঁদরের দল ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়।

মনসুরের আর বম্বে যাওয়া হয় নি।  সে এখন বিভিন্ন এলাকায় শিস দিয়ে বাঁদর তাড়ানোর কাজ করে মাসে পাঁচ হাজার টাকা রোজগার করে।  ছোট্ট ঘরে বউ বাচ্চা নিয়ে তার সংসার।


Wednesday, November 25, 2015

কে ঠিক ?
তুমি না আমি?
মন কে পাস কাটিয়ে,
মনের কথা বলি
আর খবরের ঝড় তুলি,
কোথায় কি হোলো
আমার নেই কোনো দায়,
সবার তো একই চেষ্টা
এসব করে যদি কিছু কামানো যায়,
অন্যের বাগানে ময়লা ফেলে
সাফ করি নিজের বাগান,
তারপর গলা ছেরে গান ধরি
আমার ভারত মহান।




Monday, November 2, 2015

শোনো, নিঃশব্দে শুধু শোনো,
কথা নয়, জিভ থাকুক মুখে বন্ধ,
ঠিক শামুকের খোলের মতো
কথা যেন হৃদয়ের শত্রু না হয়,
মুখ বন্ধ থাকলে,
 হৃদয়ের সহস্র জিভ কথা বলে।




   
মোমবাতি নিয়ে ইন্ডিয়া গেটে প্রতিবাদ জানানো টা
পুরনো হয়ে গেছে, ওটা আর কোনো মিডিয়া কভার করবে না।
সাম্প্রদায়িক কথা টাও চলবে না আর, নতুন একটা চাই,
অসহিন্ষ্ণুতা, পাওয়া গেছে,
কিন্তু মোমবাতি? সে তো পুরোনো,
তাহলে? 
চল পুরষ্কার ফেরত দিই।
বাকি  সমস্যা যাক চুলোয়।
পড়া না পারলে বাবা মা বলতেন তুই একটা গরু,
এখন মিডিয়া বা তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের চাল বুঝিনা
আমরা সবাই কেমন গোরু হয়ে গেছি,
বলতেও ভয় হয় যদি কেউ কেটে খায়। 




Tuesday, September 22, 2015

বহুদিন বাদে আজ মেঘের সাথে দেখা 
মেঘ বললো, "কোথায় তুমি?"
মনে আছে আমার সাথে আকাশ পাড়ির কথা?
সুর্যোদয়ের প্রথম আলো, ভোরের পাখির ডাক আর 
আলতো বাতাস?

সেই ফড়িংটা যার ল্যাজে সুতো বেঁধে ঘুড়ির মতো উড়িযেছিলাম,
সহসাই এত দিন বাদে এসে বললো, এখনো ব্যথাটা আছে 
তাই ভুলিনি তোমায়, কিন্তু তুমি?

কানের কাছে কিচকিচ, তাকিয়ে দেখি শালিক পাখি 
কি? খুব তো খাঁচায় বন্দী করেছিলে খাবারের লোভ দেখিয়ে,
আর আজ তুমি নিজেই খাঁচায় বন্দী, কেমন মজা?

কুল গাছ্টা চিঠি পাঠিয়েছে,
কাঁটার খোঁচা বাঁচিয়ে খুব তো আমার ডালে বসে পাকা কুল খেতে 
আজ কুল তো পাও না অথবা চাও না, কিন্তু পারো কি বাঁচতে কাঁটার খোঁচা থেকে?

মাটি বললো, এক সময় কত আমায় নিয়ে খেলেছো, মেখেছো গায়ে পায়ে,
আজ তো তোমার ছোঁয়া পাই না, বা তুমি আমার ছোঁয়া,
সাদা পাথরের উপর হাঁটতে কষ্ট হয় না?

আমার কোনো জবাব নেই, 
শুধু বলি আসবো আবার, দেখা হবে সবার সাথে 
হবে চরুইভাতি।  




   

Friday, September 4, 2015


বন্ধু বলছি তোমায় শোনো, 
ইচ্ছে তোমার মানো অথবা না মানো। 

ধর্ম কোনো নীতি নয়, ধর্ম যদি মানুষ হয়,
পুজো কেবল অভ্যাস নয়, তা যদি গভীর শ্রদ্ধা হয়,
প্রার্থনা কোনো মন্ত্র নয়, তা যদি একটি ভাষা হয়,
মন্দির চার দেয়াল নয়, সেটা যদি এই বিশ্ব হয়,

এই দেশ এই দেশ আমার এই দেশ , এই মাটিতে জন্মেছি মা  ...


মসজিদ, গীর্জা কিছু আলাদা নয়, যদি তা পাহাড়, অরন্য হয়,
নদী সমুদ্র যা ময়লা বয়, তা যদি পবিত্র জল হয়,
সম্পর্ক শুধু  রক্তে নয়, তা যদি সবার ধ্যান হয়,
শিক্ষা কেবল বই তে নয়,  তা যদি একটি জীবন হয়,
জ্ঞান কখনো সীমিত নয়, তা যদি আত্মবোধ হয়,
ভালবাসা কোনো বাঁধন নয়, তা যদি বাঁচার মন্ত্র হয়,
এ দেহ রক্ত মাংসে নয়, ব্রহ্মান্ডের শক্তি বয়









Tuesday, January 13, 2015

এই যে মুহুর্ত টা  যাচ্ছে, মনে কর জীবনের সবচেয়ে আনন্দের,
এই যে মুহুর্ত টা  যাচ্ছে, মনে কর সবচেয়ে ভালবাসার পাত্র তুমি,
এই যে মুহুর্ত টা  যাচ্ছে, মনে কর এই পৃথিবী তে তোমার মত সুখী কেউ নয়,
এই যে মুহুর্ত টা  যাচ্ছে, মনে কর তোমার শত্রু  কেউ হতে পারে না,
এই যে মুহুর্ত টা  যাচ্ছে, মনে কর তোমার মত সুন্দর কেউ নেই,
এই যে মুহুর্ত টা  যাচ্ছে, মনে কর তোমার কখনো কিছু খারাপ হতে পারে না,
এই যে মুহুর্ত টা  যাচ্ছে, মনে কর ঈশ্বর তোমার সাথে আছেন ,
এক দিন এই মুহূর্ত টাই দিন মাস বছরে বদলে যাবে।