A 12-year-old boy, Krishnendu Das, in Paschim Medinipur, West Bengal, died by suicide after being publicly humiliated over allegedly taking a packet of chips.
According to reports, Krishnendu said he called out to the shopkeeper (“Uncle, I will buy chips”) but didn’t get a response.
He allegedly picked up a packet of chips lying outside the shop, believing it was discarded.
When the shopkeeper returned, he chased Krishnendu, slapped him, and made him do sit-ups in public.
Krishnendu’s mother was called, scolded him and also slapped him, according to family’s complaint.
Feeling deeply shamed, he locked himself in his room. Later, he was found with a half-empty bottle of pesticide and unconscious; he died in hospital soon after.
He left a suicide note in Bengali, saying: “Maa, I am not a thief … While returning I spotted a Kurkure packet lying on the road and picked it up. I love Kurkure.”
The shopkeeper, Subhankar Dikshit (who is also a civic volunteer), was later arrested for allegedly abetting the suicide.
The boy’s family has filed a formal police complaint against Dikshit.
The Times of India
According to CCTV footage (reported by the family), the boy did not steal; he allegedly picked up the chips packet from outside the shop.
The Times of India
The footage reportedly shows the boy had tried to pay (or offered to pay) for the chips.
আমি কে বলতো? কি করে বলবে তোমরা, আমার নিজেরই কেমন স্বপ্নের মতো মনে হয়। কত বছর পেরিয়ে গেছে, কারো হয়তো আজ মনে নেই, সময়ের সাথে সাথে সব হারিয়ে যায়, আমিও তেমন ভাবে হয়তো হারিয়ে গেছি। সে অনেক দিন আগের কথা, তখন আমার বয়স কত হবে এগারো কি বারো। আজ সেই গল্পো বলব তোমাদের, আমি জানি এমন সাধারণ গল্পো তোমরা হাজারো শোনো, তবুও বলি, নিজের মনটা হালকা করি .
সত্যি তোমরা আমার গল্পঃ শুনতে চাও. আমি অথৈ, কি নাম টা শুনে কিছু বোঝা গেলো? আমিও বুঝিনি। আমার মা রেখেছিলো এই নাম। হাইস্কুলে প্রথম দিন মাস্টারমশাই জিজ্ঞেস করলেন। তোমার নামের মানে কি বলতো। আমি তো জানিই না তাই বলতে পারলাম না। মাস্টারমশাই বললেন, মা এর কাছে জেনে এসো, নিজের নামের মানে টা জানা খুব দরকার, তবেই তো সেই নাম কে সার্থক করতে পারবে.
ও মা মা, আমার নামের মানে কি বলবে, স্কুলে বলতেই পারলাম না, কি লজ্জার বলো তো . মা বললো, অরে অথৈ মানে যার তল পাওয়া যায় না, মাপা যায় না. বোকা মেয়ে কোথাকার.
ও তার মানে ওই যে করতোয়া নদী, বর্ষাকালে তুমি আমায় যেতে বারণ করো কারণ বর্ষাকালে তার তল পাওয়া যায় না। আমি নদী হবো মা।
তুমি তো নদীর মতোই চঞ্চল, সারাদিন ছুটে বেড়াচ্ছো. মেয়েদের শান্ত হতে হয় বুঝলে, এত চঞ্চল হলে চলে না.
আমি এত বুঝি না. আমি করতোয়ার মতো ছুটে চলতে চাই, আমি নদী হতে চাই.
মা বলে নদী হওয়া বড় কঠিন রে অথৈ। অনেক কিছু সহ্য করতে হয়, আর পাহাড়ি নদীকে তো কত পাথরের ধাক্কা খেয়ে সমতলে পৌঁছতে হয়, তার পর সে গভীরতা পায়। কত জঞ্জাল বয়ে বেড়াতে হয়। তবুও থামা চলবে না।
আমি জানি, মা কে দেখে এসেছি, কত কষ্টে, যন্ত্রণায় হাসি মুখে সব সামলে গেছে, দুবেলা খাবার জোগাতে বাবা হিমশিম খেয়ে যেতো, মা একা মুখ বুজে সব সামলে গেছে, খুব যে পড়াশোনা জানা ছিল না নয়, তবে তার অন্যায়ের সাথে আপোষহীন লড়াই, জীবন বোধ আমায় ভাবতে শিখিয়েছিল. সেই মা ও একটা বড় ভুল করে ফেলেছিল জীবনে.
অনেক সময় মায়ের কথা আমার মাথায় ঢোকে না। মা বলে বড়ো হও সব বুঝবে। বড়ো হতে পারলাম কই।
এ মা তোমাদের একটা কথা বলাই হয় নি, তোমরা জানো আমি কোন স্কুলে আর কোন ক্লাসে পড়ি? আমার বাড়ি কোথায়? কে কে আছে আমার বাড়িতে? কিছুই তো জানো না, জানবেই বা কি করে আমি কি বলেছি?
এতো ব্যস্ত হওয়ার কি আছে? বলবো সব আস্তে আস্তে, আমার কাছে এখন অনেক সময়।
চা বাগানে ঘেরা আমাদের গ্রাম রূপগঞ্জ, দূরে নীল পাহাড়ের সারি, যেখানে আকাশ ছুঁয়েছে পাহাড়কে, জানোতো ওই পাহাড় আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে, আমার মনে হয় ছুটে গিয়ে ওই পাহাড়ের মাথায় উঠে আকাশকে ছুঁই, এক টুকরো মেঘ আমার স্কুল ব্যাগে ভরে এনে বন্ধুদের সাথে ভাগ করে নিই. দেখবে আমি বড় হয়ে একদিন নিশ্চই ওই পাহাড়ের মাথায় উঠবো, আর সবাইকে বলবো দেখ আমি কত বড় হয়ে গেছি, আমাকে তোমরা আর ছুঁতে পারবে না । আমি বাবাকে বলেছি আমাকে ওই পাহাড়ে একদিন নিয়ে যেতে। জানোতো রাতে পাহাড়ের রাস্তা দিয়ে যখন গাড়িগুলো উপরে ওঠে, ঠিক মনে হয় আলোর বিন্দু অন্ধকার আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে. জোৎস্না রাতে আলোর বন্যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা যখন ঝলমল করে, আমার মনে হয় ছুটে যাই ওখানে, তোমরা কখনো দেখেছো সেই আলো?
'আলোকের এই ঝর্ণা ধারায় ধুইয়ে দাও'
তোমরা ঝর্ণা দেখেছো? পাহাড়ি ঝর্ণা? আমাদের গ্রামেও অনেক ছোটো ছোটো ঝর্ণা আছে, বর্ষাকালে সেগুলো জেগে ওঠে. আমার মাঝে মাঝে মনে হয় আমি ঝর্ণা হবো. তোমরা বলতো ঝর্ণা হওয়া ভালো না নদী ?
জানো, আমাদের গ্রামে এখনো লাইট নেই, আমি শহরে মামার বাড়িতে দেখেছি কেমন দেওয়ালে বোতাম টিপলেই আলো জ্বলে ওঠে. তোমরা অন্ধকার দেখেছো? মিশমিশে অন্ধকার, ঘন কালো চাদরে ঢাকা চারিদিক। কি ভয়, কি ভয়, এই বুঝি ভুত গলা টিপে দেবে। জানো আমাদের স্কুলে না ভূত আছে, সন্ধ্যে হলে আর কেউ ও পথে যায় না, স্কুলের পাশে একটা মস্ত বট গাছে হাজার হাজার বাদুড় ঝোলে, ভূতেদের খুব পছন্দের জায়গা, আমরা কেউ দিনের বেলাতেও ও গাছের কাছে যাই না. রাতে আমার উঠোনে নামতেও ভয় করে। কিন্তু যেই মাথা তুলে আকাশের দিকে তাকাই, কত সহস্র তারা মিটি মিটি করে জ্বলছে, ধীরে ধীরে সেই তারার আলোয় অল্প অল্প করে সব ফুটে ওঠে। তোমরা কখনও তারাভরা আকাশ দেখেছ? সপ্তর্ষিমন্ডল, কালপুরুষ যেন তীর ধনুক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে. ধ্রুব তারা, আমার কখনও মনে হয় আমি তারা হব, কেমন আকাশে জ্বলজ্বল করবো. অন্ধকারে রাস্তার দু ধারে জোনাকীরা আলো জ্বেলে রাখে। মনে হয় যেন আকাশের তারা গুলো মাটির উপর নেমে এসেছে। আমি কতদিন জোনাকী ধরে বড়ো কাঁচের বয়ামে ভরে রেখেছি, ঘর কেমন আলোয় ভরে যায়। আমি যদি জোনাকি হতাম তাহলে অন্ধকারে কেউ পথ হারালে তাকে আলো দেখাতাম.
সন্ধ্যে হলে আমি লণ্ঠন নিয়ে বারান্দায় পড়তে বসি, দূরে কোথাও রেডিও তে বাজে 'ঘুম ঘুম চাঁদ ঝিকিমিকি তারা এই মাধবী রাত' সারাদিনের ছোটাছুটির পর কখন যে পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়ি আমি নিজেও জানি না।
ঝড়কে আমার ভীষণ ভয় করে, আমাদের ঘরের কত টালি উড়িয়ে নিয়ে গেছে, কত ভেঙে পড়েছে ঘরের মধ্যে, প্রতি বছর এমন হয়, সবসময় রাতের বেলাতেই ঝড় আসে কেন বলতো ? সুপুরি গাছ গুলো একদম নুইয়ে যায়, বড়ো বড়ো গাছ গুলো পাগলের মতো ডাল পালা নাড়াতে থাকে, আমার রাগ হয়, এই গাছ গুলোরই যত দোষ। ওদের জন্যেই এই ঝড়। কেন যে বাবা গাছ গুলো কেটে দেয় না। ঝড় উঠলেই বৃষ্টি শুরু হয়। সে রাতে মা চৌকির নিচে বিছানা করে দেয়, সেখানে গুটিয়ে শুয়ে থাকি, ভয় হয় আবার মজাও হয়, জোরে জোরে মেঘ ডাকে বিদ্যুৎ চমকায়, ঝড়ের শব্দে কার ঘুম পায় বলতো?
মাঠ পেরিয়ে মিতু পিসির বাড়ি, ওরা বাড়িতে মুড়ি ভাজে। বিকেলে বাবা ফিরে ১০ পয়সা দেয়, আমি মুড়ি কিনে আনি, একদিন বাড়ি ফেরার সময় কি ঝড় উঠেছিল জানো, আমার মুড়ির ঠোঙা হাওয়ায় উড়ে গিয়ে সব মুড়ি মাঠে ছড়িয়ে পড়লো, আর মুড়ি খাওয়া হলো না। তাই ঝড় আমার একদম ভালো লাগে না. পাখির শব্দে ঘুম ভাঙে। মনে হয় রাতে কোনো দানব এসে সব লন্ডভন্ড করে দিয়ে গেছে।
দেখেছো আমি কেমন বকবক করি।
চলো তোমাদের আমার গ্রাম টা ঘুরিয়ে দেখাই। ওই দেখো দূরে, দেখতে পাচ্ছ নীল পাহাড়, ফাঁকা মাঠ শেষ হলেই পাহাড় শুরু, আর ওই যে মেঘের ফাঁকে এক ফালি সাদা চুড়া, ওটা কাঞ্চনজঙ্ঘা, এখন মেঘে ঢেকে আছে, শীতকালে যখন ভোরে সূর্যের আলো পরে মনে হয় এক ফালি সোনার টুকরো আকাশ ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে আছে, এবার বা দিকে চলো, দেখো সামলে, এই ঢালান দিয়ে নামলেই নদী, আমরা তো দৌড়ে নেমে যাই, দেখো নদীর পারে কত পাথর তুলে রেখেছে, আমার পাথরের উপর বসে সূর্যাস্ত দেখতে খুব ভালো লাগে, কেমন লাল রঙের টিপের মতো হয়ে যায়, ঠিক যেমনটি আমার মায়ের কপালে সিঁদুরের টিপ. নদীর ধার ধরে এগিয়ে গেলে কুলের বন, সব ছোট ছোট কুলের গাছ, কিন্তু খুব ভয়ের, কেউ যায় না, ওখানেও ভূত আছে, ওটার পাশেই তো কবরখানা, আমায় বাবুন বলেছে, আরে ওই তো বাবুন, কি রে বাবুন কোথায় যাচ্ছিস রে? বাবুন আমার ক্লাসে পড়ে। আমার খুব ভালো বন্ধু। ওই দাস পাড়ায় ওদের বাড়ি। জানত আমাদের স্কুলে বসার বেঞ্চ নেই, আসন নিয়ে যেতে হয়, মাটিতে পেতে বসার জন্যে। কারা যেন আমাদের স্কুল আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিলো, সব বেঞ্চ পুড়ে গেছে।
একদিন কি হয়েছে জানো, পড়া মুখস্ত হয় নি, এদিকে মাস্টারমশাই পড়া ধরেছে, আমি বইটা নিচে খুলে রেখে মাথা নিচু করে বই দেখে পরে যাচ্ছি -
পাল্কী চলে !পাল্কী চলে !
গগন-তলে
আগুণ জ্বলে !
স্তব্ধ গাঁয়ে
আদুল্ গায়ে
যাচ্ছে কারা
রৌদ্রে সারা !
হটাৎ মাস্টারমশাই কিছু না বলে হেড মাস্টারমশাই কে ডেকে এনে দেখিয়ে দিলেন, কি লজ্জা বলো, কিন্তু আমি তো তখন পালকি নিয়ে চলেছি মাঠ ঘাট পেরিয়ে।
[পাল্কির গান - হেমন্ত ]
পুজো এলে কি আনন্দ হয় না, বাবা নতুন জামা কিনে দেবে, ঠাকুর দেখতে যাবো, ভীষণ মজা হয়. মহালয়ার দিন অন্ধকার থাকতে থাকতে উঠে আমি মায়ের সাথে বাপ্পাদের বাড়ি যাই মহলয়া শুনতে, আমাদের বাড়িতে তো রেডিও নেই। ভোরের আলোয় কাঞ্চনজঙ্ঘা টাও ঝলমল করে ওঠে, অন্য সময় তো মেঘের জন্যে দেখা যায় না, এই যে আমাদের বাড়ির সামনে ফাঁকা জায়গা টা দেখছ এখানে পুজোর সময় কাশফুলে ভরে যায়, একদম দুধের নদী মনে হয় তখন, হওয়ার দোলায় যখন ঢেউ ওঠে আমার মনে হয় সাঁতরে ওপারে চলে যাই, কিন্তু আমি তো সাঁতার জানি না, জানো আমার সব বন্ধুরা জানে, তাই বর্ষাকালে মা আমাকে যেতে দেয় না নদীতে। কি ভীষণ স্রোত কি বলবো, কিন্তু গরম কালে হাঁটু জল থাকে, তখন নদীতে ঝাপাতে খুব আনন্দ হয়, বাড়িতে কেউ বেড়াতে এলে তার হাত ধরে নদীতে চলে যাই, তখন মা বাধা দেয় না, (নদীতে স্নান করার সময় সাথে না ছোট বাটি তারপর একটা কাপড় বেঁধে মুখে একটা ফুটো করে উপরে কিছু আটা মাখিয়ে দিতাম। আর সেগুলোকে নদীর জলে বসিয়ে দিতাম। স্নান করে উঠে আসার সময় বাটিগুলোকে নিয়ে আসতাম ততক্ষণে বাটি ভর্তি মাছ জমা হতো। ) এই পুকু তুই আমার বাটিতে হাত দিবি না. পুকু খুব দুষ্টু . তোমরা কোনদিন এমন ভাবে মাছ ধরেছ?
দেখতে দেখতে কালী পুজো এসে যায়, কালী পুজোতে সবাই বাড়ির সামনে মাটি দিয়ে পাহাড় তৈরী করে, কত রকমের পাহাড়, রাস্তা, নদী সব, রাস্তার উপর ছোট ছোট খেলনা গাড়ি - ঝর্ণা সব। যাদের অনেক টাকা তারা অনেক বড়ো বড়ো পাহাড় তৈরী করে, আমি, পিকু আর বাবুন মিলে পাহাড় বানাই আমাদের বাড়ির সামনে বড়ো গাছটার নিচে। যাদের টা ভালো হয় তারা প্রাইজ পায়. দেখবে আমিও একদিন এই বড় পাহাড় বানাবো.
আমার পছন্দের কথা তো বলাই হয় নি, আমার ঘুরি ওড়াতে খুব ভালো লাগে, মা বলে তুই আমার ছেলে না মেয়ে সেটা বুঝে পাই না. বড় হচ্ছ এবার একটু শান্ত হও.
আমি কি করবো আমার তো মনে হয় ঘুরির মতো ওই দূরে আকাশে ভেসে বেড়ই, তারপর সুতোটা কেটে গেলে সোজা পৌঁছে যাবো ওই পাহাড়ের কাছে, কেমন মজা হবে বলো (গান : দূরে কোথাও দূরে দূরে). আমাদের পাড়ায় নিতু কাকুর ঘুড়ির দোকান আছে, আমি যাই না, মা বারণ করেছে, বাবার সথে কি নিয়ে যেন নিতু কাকুর একটা ঝামেলা হয়েছিল. সেই থেকে যাওয়া বারণ. আমার কি ইচ্ছে করে জানো, মা যদি একটা কিনে দিত.
বিকেলে সবাই ঘুরি ওড়ায় আমাদের বাড়ির সামনের মাঠে, আমার নেই, আমি কখনও বাবুনের, কখনও বাপ্পার ঘুরির সুতো ধরে টানি, মা কে বললে বলে মেয়েদের ঘুরি ওড়াতে নেই, কেনো বলত ছেলেরা যা করে মেয়ে রা কেনো করতে পারবে না, আমি নিতু কাকুর দোকানের সামনে দিয়ে যাই আর দেখি কত রঙের ঘুরি সাজানো, সেদিন কি হয়েছে জানো? আমি দোকানের সামনে দিয়ে আসছি, দেখি রাস্তায় একটা ঘুরি পরে আছে, আমি তুলে নিয়েছি, অমনি কোথা থেকে ভানু দাদা, নিতু কাকুর বড় ছেলে আমাকে ধরে বলে, কি রে তুই ঘুরি চুরি করলি, আমি বললাম না আমি তো রাস্তায় পেলাম, সে শুনবেই না, নিতু কাকু ছুটে এলো ভেতর থেকে, আমার হাতে ঘুরি দেখে রেগে আগুন, তুই চুরি করেছিস, আমি বলি না আমি চুরি করিনি, সে শুনবে না, আমার কান ধরে এক চর, আমি কাঁদতে থাকি, বলে যেমন বাবা তেমন মেয়ে, পাড়ার লোক জড়ো হয়, খবর চলে যায় মায়ের কাছে, মা ছুটতে ছুটতে আসে, আমি যত বলি আমি চুরি করি নি, কেউ শোনে না, মা প্রথম বার আমার গায়ে হাত তোলে, চুলের মুঠি ধরে বাড়ি নিয়ে আসে, আমি যত বলি মা আমি চুরি করিনি, আমি পেয়েছি. কেউ শোনে না আমার কথা.
মা আমি চুরি করিনি, তুমি জানো আমার ঘুরি ওড়াতে ভালো লাগে, আমি দেখেছি, কাকু ছিলনা দোকানে, আমি রাস্তায় ঘুড়িটা কুড়িয়ে পেয়েছি, আমি চলে যাচ্ছি, আমায় ক্ষমা করো, আমি বলেছিলাম আমি নদী হতে চাই, নদী আমায় ডাকছে.
নদীতে তখন গভীর জল থই থই করছে, আমি দৌড়ে যাই নদীর দিকে, আমি বলেছিলাম না আমি নদী হব, আমি নদী হলাম . আমায় আর কেউ খুঁজে পাবে না.
আমি সারাদিন দুস্টুমি করি,
ছেলেদের মতো করি ঘোরাঘুরি,
মা সবটাই জানে।
রাস্তার ধরে ডাংগুলি খেলি,
ছেড়া ঘুড়ি নিয়ে মারামারি জুড়ি
মা সব কিছু জানে।
যত ছোটাছুটি যত আবদার,
কোনো কিছুতেই বাঁধা নেই তার,
শুধু একটাই কথা বার বার করে,
সূর্য ডোবার আগে ফিরে এস ঘরে।