Tuesday, February 2, 2021

পেন 

উচ্চ শিক্ষিত রুদ্র রায়।  বছর দুই হল একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সর্বোচ্চ পদ থেকে অবসর নিয়েছেন। একসময় বিভিন্ন সংস্থায় দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। অনেক লোক কে ঘোল খাইয়েছেন। অনেকের চাকরী খেয়েছেন। দেশে বিদেশে, পার্টিতে, বড় বড় ক্লাবে তাঁর নিত্য আসা যাওয়া চলত। এখনো সাথে অহংকারের একটা ভার বহন করেন, তা ওঁর চোখ মুখ দিয়ে গরম তেলের মতো চুইয়ে পরে সবসময়। সংসারী মানুষ হলেও স্বভাব অনেকটা মাছের মতো। স্ত্রী, ছেলে, বৌমা সবাই সমঝে চলে রুদ্র রায়কে। এমন কি ছয় বছরের নাতি রুমনও বাদ যায় না। ওঁর কাজের টেবিলে একটা ডাইরী, সবচেয়ে প্রিয় একটি দামি পেন, কিছু বই, সিগারের বাক্স,আরো টুকি টাকি জিনিস সবসময় ঠিক ঠিক জায়গায় সাজানো থাকে। সে ঘরে অনধিকার প্রবেশ নিষেধ। একবার ওঁর পেন ব্যবহার করে মাসের ফর্দ লিখতে গিয়ে স্ত্রী বিমলা ভীষণ ধমক খেয়েয়েছিলেন। 

রুমনেরও  খুব কৌতুহল দাদুর ঘর আর তাঁর সব জিনিসের প্রতি। মাঝে মাঝে দাদুর  অবর্তমানে গিয়ে টেবিল থেকে এটা ওটা নিয়ে দেখে। তেমনই একদিন সুযোগ পেয়ে দাদুর প্রিয় পেন দিয়ে নিজের কাগজে আঁকিবুকি কেটে চলে আসে। কিছুক্ষন বাদে রুদ্র রায় ফিরে আসেন। 

'কে আমার ঘরে ঢুকেছিলো?', হুঙ্কার শোনা যায়।  বিমলা ছুটে আসেন, সাথে কাজের লোক ও বৌমা।  

'কে আমার পেনে হাত দিয়েছিলো? টেবিলের উপর পেনটা ঢাকনা খোলা পরে থাকতে দেখেন সকলে। রুমন মায়ের আঁচলে মুখ লুকোয়।  

সেদিন একেবারে তুলকালাম কান্ড। সবাই কে জেরার পর জানা গেলো যে রুমনকে ওই ঘরের দিকে যেতে দেখা গিয়েছিল। ছেলে বৌমাকে এমন কি বিমলাকে তার জন্যে অনেক কথা শুনতে হয়েছিল সেদিন। তার পর থেকে দাদুর ঘরে লুকিয়ে যাওয়াও বারণ হয়ে গেল রুমনের।  

আজ প্রায় ছ'মাস হলো রুদ্র রায় গত হয়েছেন। সেই ঘরে যাবার আর কারো কোনো বিধি নিষেধ নেই। রুমন এখন আট। একদিন দাদুর ঘরে খেলতে খেলতে খাটের কোণে হটাৎই সেই বহু আকাঙ্খিত পেনটা ধুলোমাখা অবস্থায় পরে থাকতে দেখে।  

হাতে তুলে রুমন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে পেনটার দিকে।



No comments:

Post a Comment