Wednesday, July 25, 2018

বহুদিন হলো স্পার্ক প্লাগের দিকে নজর দেওয়া হয় নি,
ময়লা জমে জমে কেমন অচল হতে বসেছে। 
মাটিতে বুক ঠেকিয়ে কেমন সরীসৃপের মতো চলছে,
একরকম জোর করে টেনে নিয়ে যেতে হচ্ছে।
সময় নেই, সময় নেই করে দিন চলে যায়
যে কোনো দিন মুখ থুবড়ে পড়বে, ব্রহ্ম মুহূর্তের অপেক্ষায়। 
এখন এই মুহূর্তে দরকার, শুধু একটা স্পার্ক,
আবার  মাথা উঁচু করে ছুট দেবে আলোর পথে।

Wednesday, June 27, 2018

জীবন টা কেমন ধীরে ধীরে নারকেলের মতো হয়ে গেছে
আগে ছিল টলটলে মিষ্টি একটা মন, বাইরে  সবুজ আবরণ
চাইলে যে কেউ সহজেই ছুঁতে পারতো।
আজ বাইরের আবরণ কেমন শুকিয়ে গেছে,
শুধুই অবাঞ্ছিত ছোবড়া,
মনটা একটা শক্ত প্রাচীরে ঘেরা,
সহজে নাগাল পাওয়া যায় না।
কঠিন আঘাত না করলে বোঝাই যায় না,
সে যে আজও টলটলে মিষ্টি রয়ে গেছে।


Monday, April 23, 2018

কলজে - শুভাশিষ

অরে লাগ্ লাগ্ লাগ্ , লাগ্ ভেলকি লাগ্। কালো রঙের জোব্বা পড়া লোকটা হাতে একটা ছোট লাঠি নিয়ে চেঁচিয়ে যাচ্ছে, ঝাকড়া ঝাকড়া মাথা ভর্তি চুল, মুখের মধ্যে অজস্র ডাগ, দেখলে কেমন যেন ভয় ভয় করে, এই বোধহয় ব্যাগে পুরে নিয়ে চম্পট দেবে। তাকে গোল করে ছেলে বুড়ো বাচ্চা সব দাঁড়িয়ে আছে। লোকটির সাথে একটা সাত আট বছরের ছেলে হাতে একটা থালা নিয়ে বাজিয়ে যাচ্ছে। 
আবার কোথাও রিক্সায় বসে একটি লোক মাইকে হিন্দি গান বাজিয়ে বিড়ি বিক্রি করছে, আর তার সাথে দুটি ছেলে, একজন মেয়ে সেজে, ওরা বলে ধর্মেন্দ্র আর হেমামালিনী, হিন্দি গানের সাথে নেচে ভিড় জমাচ্ছে। কোথাও বা একজন ভাগ্য ভালো করার তাবিজ বিক্রি করছে। ঠিক যেন মেলা বসেছে।  
আজ বৃহস্পতি বার, হাট বসেছে, সপ্তাহে দুদিন হাট বসে, বৃহস্পতি আর রবিবার। বিভিন্ন জায়গা থেকে কত ধরণের লোক আসে, খেলা দেখাতে,  জিনিস বিক্রি করতে। আসে পাশের মফস্বল থেকে সবাই আসে হাট করতে। কেউ কিনতে কেউ বেঁচতে। 
উত্তরবঙ্গের একটি ছোটো গ্রাম 'রাজগঞ্জ', মানে রাজাদের গঞ্জ। সবুজে ঘেরা গ্রাম, চারিদিকে ধান ক্ষেত, পাট ক্ষেত, আনারস বাগান, মাঝখান দিয়ে পাহাড়ি নদি করতোয়া বয়ে চলেছে, কাঁচের মত স্বচ্ছ জলে ছোটো ছোটো মাছের খেলা, নিচে পাথর আর বালি সব পরিস্কার দেখা যায়, দূরে মাথা উচুকরে হিমালয়  দাঁড়িয়ে আছে। গোগলের জন্ম বেরে ওঠা এখানেই। উত্তরের আকাশ যেখানে মিশেছে পাহাড়ের কোলে, সবুজ পাহাড় হয়ে গেছে নীল, শীতের সকালে যখন সুর্যের আলোয় কাঞ্চণজঙ্ঘা সোনালি আভা নিয়ে ঝলমল করে, রাতে পাহাড়ের গা বেয়ে যখন গাড়ি ছোটে, দুর থেকে তার আলো দেখে মনে হয় যেন শুন্যে ছুটে চলেছে কোনো আলোর পোকা। কুচকুচে অন্ধকারে জোনাকীর আলো, গোগোল কে ছুটিয়ে নিয়ে যায় এক স্বপ্নের জগতে। তখনো গ্রামে বিদ্যুৎ আসে নি। কৃষ্ণপক্ষ মানে মিশমিশে অন্ধকার। এক হাত দূরে কেউ দাঁড়িয়ে থাকলে দেখা যায় না, তেমন আবার জোৎস্না রাত ভেসে যায় আলোর বন্যায়। সে যেন এক স্বপ্নপূরী। 
হাটের দিন গোগলের মন পরে থাকে হাটে যাবার জন্যে, কত লোক কত কত মজার জিনিস বিক্রি করতে নিয়ে আসে, কত মজার খেলা।
এই বাজারেই গোগলদের দোকান, হাটের দিন বিকেলে দোকানে এসে বাড়ির জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার  কাজ গোগোলের। সেদিন দাদারা ব্যস্ত থাকে, তাই এই কাজটা গোগোলকেই করতে হয়। তার মজাও লাগে। কত ধরনের লোক আসে এই হাটে।  কত কি বিক্রি হয়। ধান, গম, পাট, গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগী আরো কত কি।
গোগোল দের দোকানের সামনেই সাদা ধুতি পাঞ্জাবি পরা একটি লোক কালো ব্রিফকেস নিয়ে এসে দাড়াতেন হাটের দিন।
হাঁক দিতেন, 'দাদারা হাত কাটা তেল, কেটে যাক, পুড়ে যাক, কোন ভয় নেই, ঘরে রাখুন একটি হাত কাটা তেলের শিশি'। সেই তেলের কি গুন তা বোঝাবার জন্যে নিজের কবজিতে সেই তেলের মত মলম টি  লাগিয়ে নিতেন, আর তারপর একটা ধারালো ছুরি বসিয়ে দিতেন সেই খানে। রক্ত বের হত না, শুধু একবার নয়  বারবার সেই খেলা দেখাতেন,  খেলা শেষে সবাই কিনে নিত সেই 'হাত কাটা তেল' । আর এক পাসে বসত রামপ্রসাদ মুচি, তার কাছে সাজানো থাকত গুলতি বানাবার রাবার আর চামড়া। দশ বছরের গোগোলের খুব লোভ ছিল সেই গুলতি বানাবার সরঞ্জামের প্রতি। কিন্তু দাদার মানা ছিল।
গোগোল অবাক হয়ে দেখত সেই সব মজার খেলা। আজকের দিনে টিকিট কেটেও দেখা যাবে না সেই সব।  
হাটের মাঝে সেই জোব্বা পরা লোকটা একের পর এক খেলা দেখিয়ে যাচ্ছে। সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে দেখছে তার ভেলকি। 
দাদা একটা কিছু কিনতে পাঠিয়েছে গোগোল কে, বলেছে ছুটে গিয়ে নিয়ে আসতে। গোগোল হাটের মাঝে গিয়ে দেখে লোকজন গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কৌতুহল বসে গোগল ভির ঠেলে একটু যায়গা করে দাঁড়িয়ে যায়, মনে মনে ভাবে কিছুক্ষন দেখে চলে যাবে। 

'সবাই হাতের মুঠো শক্ত করে ধরো, মুঠো খোলা চলবে না, যে যেখানে দাঁড়িয়ে আছো সেখানেই থাকো। নইলেই গন্ডগোল। আমি যতক্ষণ না বলবো ততক্ষন এই ভাবে মুঠো শক্ত করে রাখতে হবে।  নাহলে, বাচ্চারা জেনে রাখো রাতে বিছানায় হিসি কেউ আটকাতে পারবে না।', জোব্বা পড়া লোকটা চেঁচিয়ে উঠলো। কি  জ্বালা বলতো, দাদা বললো দৌড়ে গিয়ে একটা জিনিস  নিয়ে আসতে, আর সে কিনা এখানে এসে আটকা পড়েছে। কিছুতেই নড়তে পারছে না, মুখের সামনে একটা মাছি বার বার বিরক্ত করছে, তাকে তাড়াতে পর্যন্ত পারছে না, পাছে রাতে বিছানায় হয়ে যায়। কি লজ্জার কথা বলো। লোকটা অনরগোল বলে চলেছে। সবাই হাঁ হয়ে দেখছে তার কাণ্ডকারখানা। কোনো ডিগ্রিধারী এম বি এ-র ঘাম ছুটে যাবে এমন সুনিপুন ভাবে কথার মারপ্যাঁচে ফেলে লোক আটকে রাখতে। 
লোকটি তখন নাক আর কপালের খাজে একটি মার্বেল রেখে মাথা উচু করে আকাশের দিকে তাকিয়ে  আর একটি মার্বেল শুন্যে ছুড়ে দিলো। আশ্চর্য দক্ষতায় উপর থেকে নেমে আসা মার্বেলটা  তার নাকের উপরে রাখা মার্বেলের উপরে পরে দুটো মার্বেল টুকরো টুকরো হয়ে গেলো। 
ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা গোগোলের চোখ চিক চিক করে উঠলো। বাড়ি ফিরেই এই খেলাটা চেষ্টা করে দেখতে হবে। মার্বেল তো আছেই।  ঠিক তখনি জোব্বা পড়া লোকটা বলে উঠলো, বাড়িতে কেউ চেষ্টা করতে যাবে না বাচ্চারা, যদি করতেই হয় তাহলে রসগোল্লা দিয়ে প্রথমে চেষ্টা করো।
আবার হেকে উঠলো, কেউ নড়বেন, হাতের মুঠো শক্ত, নাহলে মনে আছে তো রাতে কি হবে।
এবার মারাত্মক এক খেলা, এই যে ছোট বাচ্চা দেখছো আমি তার কলজেটা বের করে দেখাবো, আবার তাকে বাঁচিয়ে দেব। কিন্তু এই খেলা চলার সময় কেউ মুঠো খুলবে না, এখান থেকে এক পাও নড়বে না। কথা না শুনলে ওকে বাঁচাতে পারবো না।
উত্তজনা টান টান। মাটিতে একটা চাদর পেতে বাচ্চা ছেলেটি নিজেই শুয়ে পড়লো  তার উপর একটা কালো কাপড়ে ঢাকা চৌকোনা বাক্স বসিয়ে দেওয়া হলো। ছেলেটির মাথা ও পা বাইরে রয়ে গেলো । শুধু বুকটা ঢেকে গেলো। লোকটা কত কি মন্ত্র পাঠ করে ছেলেটির চারিদিক ঘুরতে লাগলো, হাতে ধরা একটা ধারালো ছুরি নিয়ে। 

গোগোলের পা কাঁপতে লাগলো, পালাতে চাইছে কিন্তু পারছে না, পা যেন মাটিতে আঠার মতো আটকে গেছে। ভয় করতে লাগলো। নিজের উপর রাগ হলো, কি দরকার ছিল খেলা দেখার লোভ করার।  এখন ঠেলা সামলাও।

লোকটা হটাৎ করে ছুরিটা কালো কাপড়ে ঢাকা বুকের মধ্যে সজোরে চালিয়ে দিলো। ছেলেটির পা ছটপট করতে লাগলো। মুহূর্তের মধ্যে লোকটার হাতে উঠে আসলো রক্তমাখা কলজে।সে সেটা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সবাইকে দেখতে লাগলো। ছেলেটা নিথর পরে রইলো। লোকটা কিছুক্ষন বাদে আবার মন্ত্র পরে কলজেটি যথাস্থানে লাগিয়ে দিলো। কালো কাপড়ের ঢাকা সরিয়ে দিল। ছেলেটি ধিরে ধিরে উঠে দাড়ালো। সবাই খুশি হয়ে খুচরো পয়সা ছুড়ে দিলো মাটিতে। 
ভিড় হালকা হলো। জোব্বা পড়া লোকটা তার সাথে বাচ্চাটা পয়সা গুলো কুড়িয়ে, সব জিনিস গুছিয়ে ব্যাগে ভরতে লাগলো।   তখন ও গোগোল পাথরের মতো দাঁড়িয়ে। কখন বিকেল গড়ে সন্ধে হয়েছে, বুঝতেই পারে নি। কেন এখানে এসেছে, কি নেবার জন্যে দাদা পাঠিয়েছিল সব ভুলে গেছে। 
হাতের মুঠি আলগা করে ধীরে ধীরে দোকানের দিকে রওনা দিলো গোগোল। কে জানে কপালে কি আছে আজ ।





Wednesday, January 3, 2018

থামতে বলছি অনেকবার,
কে কার শোনে।
এতদিন ধরে এক সাথে বাস
তবুও অচেনা, অধরাই রয়ে যাচ্ছে,
অবসর নেই, সব সময় ব্যস্ত,
আকাশ পাতাল ভেবেই চলেছে।
কিছু মুহূর্তের জন্যে থামলেই
ভাবি এইতো, বাগে এনেছি।
বুঝতেই পারিনা,
কখন আমাকে বোকা বানিয়ে
আবার অন্য কোথাও পাড়ি দেয়।






Monday, January 1, 2018

প্রতিদিন ভাবি, আজ থাক,
কাল থেকে হবে।
এই ভাবে কিছু মূল্যবান মুহূর্ত, ঘন্টা, দিন, মাস
বছরের পর বছর কাটিয়ে দিলাম।
স্বপ্ন গুলো জমতে জমতে আজ পাহাড় প্রমান
কিছুতে ধস নেমেছে, কিছু চাপা পরে তলিয়ে গেছে
হাতড়ে হাতড়ে ছিঁড়ে যাওয়া সুতো থেকে বিচ্ছিন্ন
মুক্তো গুলোকে আবার এক সূত্রে গাঁথতে চাই।
বিক্ষিপ্ত মন ভাবে আজ থাক, কাল থেকে করা যাবে।
এই ভাবে বছর, যুগ কেটে যায়।
অভ্যেসের শিকড় গুলো আরও মজবুত হয়।
ভাঙা যায় না দেয়াল, ছেঁড়া যায় না শেকল।
জীবনের সব যুদ্ধ জিততে গিয়ে,
অজান্তে নিজের কাছেই হারতে হয়।



বেশ কিছুদিন ধরে  গাড়ির চাকায়  হাওয়া নেই,
সময় করে উঠতে পারছিলাম না।
আজ ফেরার সময়,
একটা হাওয়া দেওয়ার জায়গা খালি দেখে দাঁড়ালাম,
ছেলেটিকে বললাম, একটু দেখে নিতে।
ও এমন ভাবে তাকালো, যেন ভূত দেখছে।
হটাৎ ই খেয়াল হলো,
আজ তো গাড়ি সাথে নেই,
আজ তো হেঁটেই ফিরছি। 

Monday, August 21, 2017

কৃষ্ণচূড়া বলে আয় বসুধারা আজকে আমরা সাজি
বসুধারা বলে, না খেলবো না তোর সাথে
তুই ভীষণ পাজি,
কৃষ্ণচূড়া বলে, কেন এমন বলিস,
আজ কত দিন বাদে দেখা,
বসুধারা বলে, কিছুই বোঝে না যেন,
কি ভীষণ নেকা।
কৃষ্ণচূড়া বলে বল না ভাই কেন এতো রাগ?
কি হয়েছে তোর আজ ?
বসুধারা বলে কি আর বলবো,
দেখেছিস তোর সাজ,
কেমন রাঙা হয়ে সেজেছিস,
আর আমায় দেখ,
কৃষ্ণচূড়া হো হো করে হেসে বলে,
আমার গায়ে রাঙা ফুল, সে তো ক্ষণস্থায়ী,
কি যে ভাবিস আরে ধুর,
আর তোর, গলায় যে ভরা সুর,
সে তো সর্বকালের।
রাগ করিসনা বোন আমার
আয় কাছে আয়।
বসুধারা কাছে যায়, আর তোলে ছবি।
রং আর সুরের মেলা,
মুচকি হাসে কবি।