Friday, January 1, 2021

 

কুড়ি কিম্বা একুশ শুধুই একটি সংখ্যা,

দিনতো সেই আসবে যাবে

মনের ভেতর থাকবে জমে আনন্দ বা শঙ্কা।

নতুন বছর প্রথম দিন, উত্তেজনায় যায় ভেসে,

ধীরে ধীরে যায় হারিয়ে

গতানুগতিক জীবনধারা দিনগুলিতে যায় মিশে।

আজকে থেকে ভাবনাগুলো একে বারেই বদলে দেব,

প্রতিদিন কে নতুন ভাবে,

অনন্ত এক সম্ভাবনায় মুহুর্তকে সাজিয়ে নেব।  

Friday, April 10, 2020

লকডাউন
কিছুদিন ধরেই শুনছিলাম, চীন এ নতুন ভাইরাস এসেছে, নানা রকম গুজব ছড়াচ্ছে, কেউ বলছে বাঁদুড় থেকে এসেছে, কেউ আবার অন্য কথা বলছে ।  নেট এ, হোয়াটসআপ এ না না রকম ছবি ছড়িয়ে পড়ছে। করোনা নিয়ে নানা জোকস ও শেয়ার হচ্ছে।  তখন ভাবি নি আমাদেরও এক চরম পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। হটাৎ করে সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করা হলো। সব বন্ধ। কেউ বাড়ির বাইরে যেতে পারবে না।  প্রথম প্রথম বেশ উত্তেজনা লাগছিলো, সেই কর্ম জীবন শুরু হওয়ার পর কোনোদিন এমন ভাবে বাড়িতে থাকতে পারিনি।  প্রথম ১৫ দিন বেশ কাটলো। আবার ১৫ দিন ঘোষণা হলো। জীবনের সব দিন বা সব মুহূর্ত ভালো কাটবে তেমন কোনো নিয়ম নেই। যদিও ভালো মন্দ কেমন কাটবে অনেকটা আমাদের মনের ভেতরের ব্যাপার। কিন্তু দার্শনিক কথা সব সময় ভালো লাগে না, বিশেষ করে সময় খারাপ গেলে। ঘরে বসে অফিসের কাজ, যোগাযোগ সব মোবাইল নির্ভর।  জিনিস না থাকলেই তার মর্ম বোঝা যায়, সেটা বুঝলাম যখন একদিন সকালে মোবাইল লকডাউন ঘোষনা করলো। আঙুলের চাপ নিতে না পেরে করলো চোখ বন্ধ। একেই বন্দি জীবন, তার উপর এই দুর্ঘটনা, সব যোগাযোগ ছিন্ন। ভীষণ রাগ হলো, কিন্তু কিছুই  করার নেই। এই পরিস্থিতি তে মানুষ অন্যের উপর দোষ দিয়ে একটু শান্তি পায়। একটা মূল্যবান নির্জীব বস্তুর উপর আর কি রাগ দেখাবো। দিশেহারা অবস্থা। ঠিক তখন দেখি একটা আরশোলা চিত হয়ে শুয়ে হাত পা ছুঁড়ছে, মনে মনে বললাম এমন তো আমার করার কথা, তোমার কি হোলো? একটা লাল পিঁপড়ে পায়ে কুটুস করে কামড়ে বলে নিজের চড়কায় তেল দাও। পিঁপড়ে! আমাদের থেকে কমজোর জীব, সে মানুষ বা অন্য প্রাণী  যাই হোক, আমরা শাস্তি দিতে পারলে ভীষণ আনন্দ পাই।  সেই কারণেই পিঁপড়েটাকে আঙ্গুল টিপে মারতে যাব, একটা বোলতা আমার দিকে একপাক ঘুড়ে শাশিয়ে গেল, খবরদার! মাথা নিচু করে বাঁচতে গিয়ে, টেবিলের কোণায় খেলাম গুতো, সামলে নিয়ে চেয়ারে বসতেই, হাতল ভেঙ্গে পড়লাম মেঝেতে, মাটিতে পরে থাকা পিন সোজা গিয়ে ফুটলো হাটুতে, ব্যাথায় আঃ করতে গিয়ে মুখ হয়ে গেল হা, বন্ধ করতেই কামড় পড়ল জিবে, রাগের চোটে হাত ছুড়তেই, টেবিলে থাকা জল ভর্তি গ্লাস পড়ল মাটিতে। পোছা আনতে গিয়ে পিছলে পড়লাম আবার, কোমড়ে লাগল চোট, উঠে দাঁড়াতেই, পায়ে আটকে পাজামার দড়ি গেল ছিঁড়ে। ভাবছি আর কত, মনের ভেতরে কে যেন ম্যারাথন দৌড়াচ্ছে, অথবা কেউ বসে হাতুরি দিয়ে অনবরত পাথর ভেঙ্গে চলেছে, থামছে না, মনে হচ্ছে মাথাটা বিগব্যাং এর মত ফেটে চারিদিকে গ্রহ নক্ষত্র সব ছড়িয়ে পড়বে। 
এভাবে চলতে পারে না, এর শেষ নেই। এর থেকে বেরোতে হবে, জানি এবার ভেতরে দেখার সময় এসেছে, যখন বাহ্যিক পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়, আর কোনো উপায় থাকে না, বোধহয় এক ধাপ এগোবার সময় তখনই আসে। ধীর পায়ে ব্যালকনিতে গিয়ে দাড়ালাম, বসন্তের মলয় বাতাস ভালবাসা বুলিয়ে দিল গায়ে, মাধবিলতার ফুলের বাহার ছুঁয়ে গেল মন, গন্ধরাজের সুবাস, নীল আকাশ, কোকিলের ডাক, সবাই বলল আজ থাক, এস আমাদের কাছে, শান্ত হয়ে বসো কিছুক্ষণ, বুকে ভরে শ্বাষ নাও । চলাফেরার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠো, মনের তো সীমা নেই, ছোটাও তাকে, অসীমের মাঝে খুঁজে পাও নিজেকে। দেখলাম আরশোলাটা অনেক চেষ্টার পর, সোজা হয়ে, এগিয়ে চলছে নিজের গন্তব্যের পথে।
শুভাশিষ

Thursday, March 21, 2019

মেট্রো ডায়েরি - ৪


আজ মেট্রোতে সাধারণ দিনের তুলনায় একটু ভিড় কম থাকায়, বসার জায়গা পেয়ে গেলাম। বসেই মোবাইল পকেট থেকে বের করে সোশাল নেটওয়ার্কে হাত বোলাতে লাগলাম, এ এমন এক স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে যে কি আর বলবো, ঠিক আগে দেখতাম কেউ কেউ বাস বা মেট্রো তে উঠেই হনুমান চালিশার ছোট বই বের করে পাঠ করতো, অনেকটা তেমন, বার বার একই ছবি একই খবর উপর নিচে করতে থাকা, যতক্ষণ নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। যাইহোক, কিছুক্ষন বাদে মোবাইল পকেটে রেখে, বই বেরকরলাম। পড়ার ফাঁকে উল্টোদিকের সিট্ এ চোখ পড়তেই আঁতকে উঠলাম, একটি কম বয়সী মেয়ে বসে আছে, তার সামনে কেউ একজন দাঁড়িয়ে থাকায় তার হাত টা শুধু দেখতে পাচ্ছিলাম । একটু ঝাকুনিতে তার গলা ও মুখের কিছুটা গোচরে এলো। এ কি? এই অবস্থায় কেউ বাইরে আসে? গত সপ্তাহে নার্সিংহোমে এমন এ একজন কে দেখেছিলাম, জন্ডিসের রুগী। সারা শরীর হলুদ হয়ে গেছে , মেয়েটির ও একই অবস্থা। এই সময় তো একদম বেরহওয়া উচিত নয়।  কি এমন অসুবিধা যে এই পরিস্থিতিতেও কাজে যেতে হবে। মানুষের জীবনে কত বাধ্য বাধকতা থাকে আমরা তার কতটুকু জানি। তার পরিস্থিতির কথা ভেবে কষ্টই পাচ্ছিলাম, মনে মনে তার সুস্থতার কামনা করছিলাম। কয়েকটা স্টেশন পর মেয়েটি উঠে আমার দিকের দরজার কাছে এগিয়ে গেলো, পরের স্টেশন এ নামার জন্যে। এখন কাছে থেকে দেখতে পেলাম মেয়েটি কে।
একদম ভুলে গেছিলাম যে গতকাল হোলি ছিল।

অণুগল্প

Friday, December 7, 2018

সে আজ আঠেরোর প্রাপ্তবয়স্ক,
আগের মতো উচ্ছলতা,
চঞ্চলতা, অবুঝতা নেই।
শান্ত, ধীর, স্থির।
সে আজ আঠেরো।
অনেক ঝড় জল পেরিয়ে,
অনেক মান অভিমানের
গন্ডি পেরিয়ে সে আজ আঠেরো।
এখনো অনেক পথ বাকি
মসৃন বা আঁকাবাঁকা যাই হোক।
সাতপাকে বাঁধার আজ সাত।
হাতে হাত আরও অনেক দিন অনেক রাত।





Friday, November 23, 2018

টিকে থাকার লড়াই এ
নতুন নতুন শেকড় গজায়,
আঁকড়ে ধরতে চায় মাটি
আরো শক্ত করে।
শ্যাওলা ধরা পুরোনো শেকড়
পৌঁছতে চায় আরো গভীরে।
বাঁধা ঠেলে যত এগোয়, 
পাতা আরো ঘন সবুজ হয়। 
সহজ নয় আকাশ ছোঁয়া
যন্ত্রনা, ব্যর্থতা সব
অন্ধকারে মাটির গভীরে রয়।





Saturday, November 3, 2018


মেট্রো ডায়েরি - ২

মেট্রোতে আমার পাশে বসা
ছেলেটি রেগে ফোনে বললো
আন্দামানের সব ছবি আগে ফোন থেকে ডিলিট করো
তারপর কথা বলবো।
ওপার থেকে কি উত্তর এলো জানি না
ছেলে টি আরও রেগে গিয়ে বললো
আমি বলছি ও নিয়ে কথা হবে না,
যদি আন্দামানের সব ছবি ডিলিট করো
তাহলেই কথা বলবো, না হলে ফোন করো না।
খট, ফোনে কেটে দিয়ে এয়ার প্লাগ কানে দিয়ে গান শুনতে লাগলো।

কিছুক্ষন বাদে আবার ফোন,
ডিলিট করো নি? না আমার, ফ্যামিলির কারো ছবি চাই না
কি অসুবিধা ছবি ডিলিট করতে? করলে তবেই কথা হবে।
আবার খট। এয়ার প্লাগ কানে আবার মন গানে।

আবার ফোন
কি সব ডিলিট করে দিয়েছো ?
সব ? ঠিক বলছো?
আমি তোমায় বিশ্বাস করি না।
খট।
এয়ার প্লাগ কানে আবার মন গানে।

ততক্ষনে আমার স্টেশন এসে গেছে,
এই বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলায় দুলতে দুলতে
অফিস চললাম।


Monday, October 8, 2018

মন টা কেমন সুতো কাটা ঘুড়ির মতো
গোত্তা খেতে খেতে দিশেহারা হয়ে
এদিক থেকে ওদিক ঘুরে বেড়ায়।

বাগে আনতে কতবার জুড়েছি সুতো,
বার বার ছিড়েছে,
খোঁচা খেয়ে ছিন্ন ভিন্ন হয়েছে কতবার। 

কখনো মগডালে আটকা পরে
প্রাণপণ চেষ্টা করেছে নিজেকে ছাড়াবার,
আবার নামিয়ে এনে জুড়েছি সুতো।

এই জোড়া আর ছেঁড়ার খেলায়
সময় বয়ে যায়,
শক্ত হয় সুতোর বাঁধন।