Monday, February 8, 2016

১২ বছর অনেক না এক মুহূর্ত?

অঙ্কের হিসেবে ১২ বছর মানে ১৪৪ মাস যা প্রায় ৪৩২০ দিন অথবা ১০৩৬৮০ ঘন্টা।  কিন্তু গীতার কাছে তা এক মুহূর্ত। এত দিনের প্রচেষ্টা, শরীরের প্রতিটি  কোষের প্রাণ শক্তি দিয়ে, জীবনের ওঠাপড়ার মাঝে নিংড়ে নেওয়া ভালবাসা দিয়ে তিলে তিলে বড় করে তোলা একটি প্রাণ আজ স্পন্দন হীন। সে আজ সুধু মোবাইল ক্যামেরায় ধরে রাখা কিছু ছবি। দুর্ঘটনায় স্বামী চলে যাবার পর, যার জন্যে নতুন করে বাঁচা, সে আজ স্কুলের বই খাতায়, আলমারি ভর্তি জামাকাপড়ের মাঝে স্মৃতি।
গীতা ডিসেম্বর এ তার দুই ছেলে নিয়ে হিমাচলে যায় একটি বিয়েতে। মাঝে একদিন ঘুরতে বের হয়। গাড়ি ধেয়ে যায় খাদে। দুই ছেলে ঝাপ দেয়, একজন সামলে নিলেও দ্বিতীয় জনের মাথা ধাক্কা খায় পাথরে। সেখানেই সব শেষ। বারো বছর আগের সেই প্রথম দিন থেকে শেষ সময় পর্যন্ত প্রতি মুহুর্তের ছবি এক মুহুর্তে চোখের সামনে ভেসে ওঠে, গীতা চোখ বন্ধ করে। দু মাস মৃত্যুর সাথে লড়াই করে গীতা সেরে ওঠে, আবার আগের মত অফিস যায়, হাসি মুখে কথা বলে। সেই ১২ বছর বা ১৪৪ মাস অথবা ১০৩৬৮০ ঘন্টার প্রতিটি ক্ষণ মনের কোনো এক কোন সযত্নে লুকিয়ে রাখে।

   

Monday, January 18, 2016

মেট্রো ডায়েরি -১

মেট্রো স্টেশনে পৌছতেই ভিড়ে ঠাসা ট্রেন এসে দাড়ালো। কোনভাবে ব্যাগ সামলে দরজা দিয়ে ঢুকতেই পেছন থেকে কেউ একজন বলে উঠলো, "আঙ্কেল থোড়া সাইড দি জিয়ে"।  একেই নিজের দাড়ানোর জায়গা নেই, তারপর সাইড। পেছনে ফিরে দেখি আমার বয়সী বা একটু বেশিই হবে এক ভদ্রলোক। চুল গুলো কালো রং করা, সিথির মাঝখান থেকে সাদা লাইন দেখা যাচ্ছে। চুল আমার ও পাকা কিন্তু রং করা নয়,  তাই বোধ হয় কাকু সম্মোধন।
যাই হোক একটু জায়গা হতেই কোনো মত এক জায়গায় দাড়ানোর সুযোগ করে নিলাম। পাসে এসে সেই ভদ্রলোক দাড়ালেন।
একটু মুচকি হেসে ভদ্রলোক কে জিজ্ঞাস করলাম যে উনার সাথে একটা সেলফি তুলতে পারি কি না।  একেই ভিড় ট্রেন, তরপর সেলফি! ভদ্রলোক অবাক হয়ে জানতে চাইলেন কেন আমার এই ইচ্ছে।
বললাম বাড়িতে আমার মেয়ে কে ছবিটা দেখিয়ে জানতে চাইব, আমাকে কি আপনার আঙ্কেলের বয়সী বলে মনে হচ্ছে?

   

Wednesday, December 30, 2015

তরতাজা 
শুভাশীষ মুন্সি 

একটা ছোট আলতার শিশি, একটা পুরনো রংয়ের বালতি তে কিছুটা জল। একটু আলতা জলে গুলিয়ে নিন, তারপর পাবদা আর টেংরা মাছ গুলো ধুয়ে তুলে নিন।  দেখবেন একদম তরতাজা মাছ, যেন সদ্য জল থেকে উঠিয়ে আনা হয়েছে, ঠিক যেমন পুরনো সাদা জামা নিল জলে ধুলে সাদা ধবধবে হয়।
প্রতি শনিবারের মত সেদিন ও মাছ কিনতে সি আর পার্ক এ গিয়ে এই অভিজ্ঞতা।  মাছের দোকানের পশে ছেলেটি সেইরকম কাজ টি করছে, সব মাছগুলো আলতা জলে ধুয়ে তুলছে।  জানতে চাইলাম কেম এমন করছ? এ তো ক্ষতিকারক। 
- দাদা এ তো আপনাদের মত লোকেরই চাহিদা, এমনি রেখে দিলে কেউ কিনবে না। একটু চুবিয়ে নিন দেখুন কেমন তরতাজা লাগে আর চটপট বিক্রি হয়।  
- সব মাছই এমন করে ধুয়ে বিক্রি করো ? 
- না, তবে পাবদা আর টেংরা তো অবশ্যই, আর যখন যেমন দরকার হয় ।
ভেবেছিলাম বাড়িতে লোক আসবে বেশ বড় বড় পাবদা মাছের সরসে বাটা করতে বলব।  
হলো না, কাটা রুই নিয়ে ফিরতে হলো, কারণ চোখে  দেখার পর অন্তত এক দিনের জন্যে পাবদা বাদ দিলাম।  পরে ভুলে গেলে দেখা যাবে। জানিনা রুই মাছে কি মেশানো। তবে এমন দিন আসলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না যেদিন শরীরের কোথাও কেটে গেলে রক্তর বদলে আলতা বের হবে? 
ডাক্তার বলবে, রুগীর অবস্থা ভালো নয় দু বোতল আলতা নিয়ে আসুন।  

Friday, December 25, 2015

ছোটো বেলায় গ্রামে কেটেছে, তখন একমাত্র ভরসা ছিল রেডিও। টিভি, ইন্টারনেট ফোন কিছুই ছিল না। জানার পরিধি ও ছিল সীমিত। হাটে মাঠে ঘোরা, ঘুরি ওড়ানো, পিট্টু, ডাঙ্গুলি খেলাই ছিল বিনোদন।  সিনেমা দেখতে হলে যেতে হত শহরে।  খ্রীষ্টমাস মানে বড়দিন  জানতাম। কেউ বলে নি সেদিন সান্টা এসে উপহার দিয়ে যায়। তাই তা উত্সব হিসেবে জীবনে আসে নি। অনেক বড় হয়ে কলকাতায় দেখলাম খ্রীষ্টমাস এর উত্সব, আলোয় ঝলমল পার্ক স্ট্রিট। কিন্তু সমস্যা একটাই, সান্টার দেখা নেই।  মনের মধ্যে পালন করি আশা উপহার পাবই কোনো একদিন। অনেক দিন কেটে গেছে। জীবন, শহর দুটোই বদলেছে। উপহার পেলাম, কিন্তু খ্রীষ্টমাস এর এক মাস পর, পঁচিশে জানুয়ারী। একটা মোহর। এক মাস পর এই দিনে সে পা দেবে চোদ্দ তে। এখন আমার স্বপ্ন, আশা, আনন্দ, দুক্ষ সব তাকেই ঘিরে। ঈশ্বর যেন তার মঙ্গল করে।   

Wednesday, December 23, 2015

'দরকার চার'

আর মাত্র দু বল বাকি, রান দরকার চার। ধীরাজের গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। পা কাঁপছে। ওর হাতে পুরো টিমের ভাগ্য নির্ভর করছে। মনে মনে রাগ হচ্ছে জিতু ভাইয়ের উপর।  কেন যে জোর করে নামালো। যে কোনো দিন ক্রিকেট খেলে নি সে কি করে একটা ম্যাচ জিতিয়ে দেবে? একজন খেলোয়ার আসেনি বলেই এই বিপত্তি।  ও তো এসেছিলো খেলা দেখতে। শেষে নিজেই যে নেমে পড়বে সেটা ভাবতে পারে নি। শেষ ওভার বাকি রান দরকার ছিলো পাঁচ। জিতু ব্যাটিং এ।  প্রথম বল গুগলি।  জিতু এক রান নিয়ে দিল ছুট। দরকার চার।  ধিরাজ তিনটে  বল পর পর মিস করলো। ব্যাটে বলে সংযোগ ঘটলো না।  পঞ্চম বলের জন্যে বোলার তৈরী হচ্ছে।  জিতু এগিয়ে গেল ধীরাজ এর দিকে।  ওকে জড়িয়ে ধরে  কিছু বলছে। এক, দুই, তিন মিনিট কাটল এই ভাবে। কেউ জানে না কি কথা হলো।  ধীরাজ ফিরে গেল নিজের জায়গায়। বোলার ছুটে এলো। ঝড়ের বেগে ব্যাট চালিয়ে ধীরাজ বসে পড়ল মাঠে। চোখ বন্ধ।  চারিদিকে উল্লাস, বল মাঠের বাইরে।  আম্প্যার হাত  নেরে জানালো চার রান।

Friday, December 18, 2015

কাজের জন্য বেশ কিছু দিন ধরে অনেক রাত হচ্ছে ঘুমোতে যেতে। আজ কিছু না থাকাতে ভাবলাম এত দিনের ঘুম টা আজ পুষিয়ে নেব। এখানে ডেঙ্গু মশার খুব উপদ্রব তাই মশারি টাঙিয়ে শোয়ার অভ্যাস আমাদের, আর টাঙানোর দযিত্বটা আমার উপর। আজ আর ইচ্ছে করলো না।  দশটার মধ্যে বিছিনায় লেপের মধ্যে পাচার করে দিলাম নিজেকে।  একই দিল্লীর শীত তারপর এতদিনের আধা ঘুম।  শোয়ার সাথে সাথে ঘুমের দেশে পাড়ি দিলাম।
কেমন এক অস্বস্থিতে ঘুম ভেঙ্গে গেল।  একটু গরম গরম লাগছে। বালিশের তলা থেকে মোবাইল টা বের করে দেখলাম রাত তিনটে বাজে। মোবাইল রেখে পাস ফিরে শুলাম।  কানের কাছে পো পো পন পন শব্দ। হাথ দিয়ে তাড়ানোর চেষ্টা করলাম। সে কি যায়। বার বার ফিরে আসে। হবে না, খিদে পেয়েছে যে।
সে এক জ্বালা।  মাথা ঢাকলে গরম লাগে, সরালে তার গান।  বেশি নয়, একটাই এত বিরক্ত করতে পারে ভাবা যায় না। উঠে বসে হাথ পা ছুড়ে কত তাড়াবার চেষ্টা করলাম, মারতে চেষ্টা করলাম, পারলাম না।  মোবাইল বের করে দেখলাম সরে চারটে বাজে।  ঘুম তো গেল। এমনি শুয়ে থাকলাম। সে আর এলো না।  একটা পুরনো শায়েরীর আদলে বলে উঠলাম, "ঘুম এলো তো তুমি এলে, কিন্তু তুমি আসাতে না ঘুম এলো না তুমি এলে"।
ঠিক করলাম মশারী ছাড়া আর নয়।

Sunday, December 13, 2015

আমি আছি, অথচ নেই,
এই থাকা না থাকার মাঝে যে স্মুক্ষ রেখা
কখনো এপারে কখনো ওপারে রই।
বুঝিনা আমি ভালো কি মন্দ,
জীবনের সপ্ত সুর কখনো সুরে আবার
কখনো বেসুরো বাজাই।
কি ঠিক আর কি ভুল আজও বুঝতে পারিনা
তাই খুশিতে চোখে জল আসে,
আর যন্ত্রনায় আনন্দ পাই।
সিড়ি একটাই, উপরে বা নিচে যাবার,
কখনো আকাশ ছুই, আবার কখনো
অতল গভীরে তলিয়ে যাই।
বুঝিনা আমি একা না অনেক তাই
সহস্রের মাঝে নিঃসঙ্গ আর 
নিঃসঙ্গতার মাঝে পরিপূর্ণ রই।