Thursday, June 19, 2025

A 12-year-old boy, Krishnendu Das, in Paschim Medinipur, West Bengal, died by suicide after being publicly humiliated over allegedly taking a packet of chips. 

According to reports, Krishnendu said he called out to the shopkeeper (“Uncle, I will buy chips”) but didn’t get a response. 

He allegedly picked up a packet of chips lying outside the shop, believing it was discarded. 

When the shopkeeper returned, he chased Krishnendu, slapped him, and made him do sit-ups in public. 

Krishnendu’s mother was called, scolded him and also slapped him, according to family’s complaint. 

Feeling deeply shamed, he locked himself in his room. Later, he was found with a half-empty bottle of pesticide and unconscious; he died in hospital soon after. 

He left a suicide note in Bengali, saying: “Maa, I am not a thief … While returning I spotted a Kurkure packet lying on the road and picked it up. I love Kurkure.” 

The shopkeeper, Subhankar Dikshit (who is also a civic volunteer), was later arrested for allegedly abetting the suicide.

The boy’s family has filed a formal police complaint against Dikshit. 

The Times of India

According to CCTV footage (reported by the family), the boy did not steal; he allegedly picked up the chips packet from outside the shop. 

The Times of India

The footage reportedly shows the boy had tried to pay (or offered to pay) for the chips.


আমি কে বলতো? কি করে বলবে তোমরা, আমার নিজেরই কেমন স্বপ্নের মতো মনে হয়। কত বছর পেরিয়ে গেছে, কারো হয়তো আজ মনে নেই, সময়ের সাথে সাথে সব হারিয়ে যায়, আমিও তেমন ভাবে হয়তো হারিয়ে গেছি। সে অনেক দিন  আগের কথা, তখন আমার বয়স কত হবে এগারো কি বারো। আজ সেই গল্পো বলব তোমাদের, আমি জানি এমন সাধারণ গল্পো তোমরা হাজারো শোনো, তবুও বলি, নিজের মনটা হালকা করি . 

সত্যি তোমরা আমার  গল্পঃ শুনতে চাও. আমি অথৈ, কি নাম টা শুনে কিছু বোঝা গেলো? আমিও বুঝিনি।  আমার মা রেখেছিলো এই নাম। হাইস্কুলে প্রথম দিন মাস্টারমশাই জিজ্ঞেস করলেন।  তোমার নামের মানে কি বলতো। আমি তো জানিই  না তাই বলতে পারলাম না। মাস্টারমশাই বললেন, মা এর কাছে জেনে এসো, নিজের নামের মানে টা জানা খুব দরকার, তবেই তো সেই নাম কে সার্থক করতে পারবে. 

 ও মা মা, আমার নামের মানে কি বলবে, স্কুলে বলতেই পারলাম না, কি লজ্জার বলো তো . মা বললো, অরে অথৈ মানে যার তল পাওয়া যায় না, মাপা যায় না. বোকা মেয়ে কোথাকার.

ও তার মানে ওই যে করতোয়া নদী, বর্ষাকালে তুমি আমায় যেতে বারণ করো কারণ বর্ষাকালে তার তল পাওয়া যায় না। আমি নদী হবো মা। 

তুমি তো নদীর মতোই চঞ্চল, সারাদিন ছুটে বেড়াচ্ছো. মেয়েদের শান্ত হতে হয় বুঝলে, এত চঞ্চল হলে চলে না. 

আমি এত বুঝি না. আমি করতোয়ার মতো ছুটে চলতে চাই, আমি নদী হতে চাই.

মা বলে নদী হওয়া বড় কঠিন রে অথৈ। অনেক কিছু সহ্য করতে হয়, আর পাহাড়ি নদীকে তো কত পাথরের ধাক্কা খেয়ে সমতলে পৌঁছতে হয়, তার পর সে গভীরতা পায়। কত জঞ্জাল বয়ে বেড়াতে হয়। তবুও থামা চলবে না। 

আমি জানি, মা কে দেখে এসেছি, কত কষ্টে, যন্ত্রণায় হাসি মুখে সব সামলে গেছে, দুবেলা খাবার জোগাতে বাবা হিমশিম খেয়ে যেতো, মা একা মুখ বুজে সব সামলে গেছে, খুব যে পড়াশোনা জানা ছিল না নয়, তবে তার অন্যায়ের সাথে আপোষহীন লড়াই, জীবন বোধ আমায় ভাবতে শিখিয়েছিল. সেই মা ও একটা বড় ভুল করে ফেলেছিল জীবনে. 

অনেক সময় মায়ের কথা আমার মাথায় ঢোকে না। মা বলে বড়ো হও সব বুঝবে।  বড়ো হতে পারলাম কই। 

এ মা তোমাদের একটা কথা বলাই হয় নি, তোমরা জানো আমি কোন স্কুলে আর কোন ক্লাসে পড়ি? আমার বাড়ি কোথায়? কে কে আছে আমার বাড়িতে? কিছুই তো জানো না, জানবেই বা কি করে আমি কি বলেছি?

এতো ব্যস্ত হওয়ার কি আছে? বলবো সব আস্তে আস্তে, আমার কাছে এখন অনেক সময়।    

চা বাগানে ঘেরা আমাদের গ্রাম রূপগঞ্জ, দূরে নীল পাহাড়ের সারি, যেখানে আকাশ ছুঁয়েছে পাহাড়কে, জানোতো ওই পাহাড় আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে, আমার মনে হয় ছুটে গিয়ে ওই পাহাড়ের মাথায় উঠে আকাশকে ছুঁই, এক টুকরো মেঘ আমার স্কুল ব্যাগে ভরে এনে বন্ধুদের সাথে ভাগ করে নিই. দেখবে আমি বড় হয়ে একদিন নিশ্চই ওই পাহাড়ের মাথায় উঠবো, আর সবাইকে বলবো দেখ আমি কত বড় হয়ে গেছি, আমাকে তোমরা আর ছুঁতে পারবে না । আমি বাবাকে বলেছি আমাকে ওই পাহাড়ে একদিন নিয়ে যেতে। জানোতো রাতে পাহাড়ের রাস্তা দিয়ে যখন গাড়িগুলো উপরে ওঠে, ঠিক মনে হয় আলোর বিন্দু অন্ধকার আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে. জোৎস্না রাতে আলোর বন্যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা যখন ঝলমল করে, আমার মনে হয় ছুটে যাই ওখানে, তোমরা কখনো দেখেছো সেই আলো? 

'আলোকের এই ঝর্ণা ধারায় ধুইয়ে দাও' 

তোমরা ঝর্ণা দেখেছো? পাহাড়ি ঝর্ণা? আমাদের গ্রামেও অনেক ছোটো ছোটো ঝর্ণা আছে, বর্ষাকালে সেগুলো জেগে ওঠে. আমার মাঝে মাঝে মনে হয় আমি ঝর্ণা হবো. তোমরা বলতো ঝর্ণা হওয়া ভালো না নদী ?

জানো, আমাদের গ্রামে এখনো লাইট নেই,  আমি শহরে মামার বাড়িতে দেখেছি কেমন দেওয়ালে বোতাম টিপলেই আলো জ্বলে ওঠে. তোমরা অন্ধকার দেখেছো? মিশমিশে অন্ধকার, ঘন কালো চাদরে ঢাকা চারিদিক। কি ভয়, কি ভয়, এই বুঝি ভুত গলা টিপে দেবে।  জানো আমাদের স্কুলে না ভূত আছে, সন্ধ্যে হলে আর কেউ ও পথে যায় না, স্কুলের পাশে একটা মস্ত বট গাছে হাজার হাজার বাদুড় ঝোলে, ভূতেদের খুব পছন্দের জায়গা, আমরা কেউ দিনের বেলাতেও ও গাছের কাছে যাই না. রাতে আমার উঠোনে নামতেও ভয় করে। কিন্তু যেই মাথা তুলে আকাশের দিকে তাকাই, কত সহস্র তারা মিটি মিটি করে জ্বলছে, ধীরে ধীরে সেই তারার আলোয় অল্প অল্প করে সব ফুটে ওঠে।  তোমরা কখনও তারাভরা আকাশ দেখেছ? সপ্তর্ষিমন্ডল,   কালপুরুষ যেন তীর ধনুক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে. ধ্রুব তারা, আমার কখনও মনে হয় আমি তারা হব, কেমন আকাশে জ্বলজ্বল করবো. অন্ধকারে রাস্তার দু ধারে জোনাকীরা আলো জ্বেলে  রাখে। মনে হয় যেন আকাশের তারা গুলো মাটির উপর নেমে এসেছে। আমি কতদিন জোনাকী ধরে বড়ো কাঁচের বয়ামে ভরে রেখেছি, ঘর কেমন আলোয় ভরে যায়।  আমি যদি জোনাকি হতাম তাহলে অন্ধকারে কেউ পথ হারালে তাকে আলো দেখাতাম.

সন্ধ্যে  হলে আমি লণ্ঠন নিয়ে বারান্দায় পড়তে বসি,  দূরে কোথাও রেডিও তে বাজে 'ঘুম ঘুম চাঁদ ঝিকিমিকি তারা এই মাধবী রাত' সারাদিনের ছোটাছুটির পর কখন যে পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়ি আমি নিজেও জানি না। 

ঝড়কে আমার ভীষণ ভয় করে, আমাদের ঘরের কত টালি উড়িয়ে নিয়ে গেছে, কত ভেঙে পড়েছে ঘরের মধ্যে, প্রতি বছর এমন হয়, সবসময় রাতের বেলাতেই ঝড় আসে কেন বলতো ? সুপুরি গাছ গুলো একদম নুইয়ে যায়, বড়ো বড়ো গাছ গুলো পাগলের মতো ডাল পালা নাড়াতে থাকে, আমার রাগ হয়, এই গাছ গুলোরই  যত দোষ।  ওদের জন্যেই এই ঝড়। কেন যে বাবা গাছ গুলো কেটে দেয় না। ঝড় উঠলেই বৃষ্টি শুরু হয়। সে রাতে মা চৌকির নিচে বিছানা করে দেয়, সেখানে গুটিয়ে শুয়ে থাকি, ভয় হয় আবার মজাও হয়, জোরে জোরে মেঘ ডাকে বিদ্যুৎ চমকায়, ঝড়ের শব্দে কার ঘুম পায় বলতো? 

মাঠ পেরিয়ে মিতু পিসির বাড়ি, ওরা বাড়িতে মুড়ি ভাজে।  বিকেলে বাবা  ফিরে ১০ পয়সা দেয়,  আমি মুড়ি কিনে আনি, একদিন বাড়ি ফেরার সময় কি ঝড় উঠেছিল জানো,  আমার মুড়ির ঠোঙা হাওয়ায় উড়ে গিয়ে সব মুড়ি মাঠে ছড়িয়ে পড়লো, আর মুড়ি খাওয়া হলো না। তাই ঝড় আমার একদম ভালো লাগে না.   পাখির শব্দে ঘুম ভাঙে।  মনে হয় রাতে কোনো দানব এসে সব লন্ডভন্ড করে দিয়ে গেছে।  

দেখেছো আমি কেমন বকবক করি। 

চলো  তোমাদের আমার গ্রাম টা ঘুরিয়ে দেখাই।  ওই দেখো দূরে, দেখতে পাচ্ছ নীল পাহাড়, ফাঁকা মাঠ শেষ হলেই পাহাড় শুরু, আর ওই যে মেঘের ফাঁকে এক ফালি সাদা চুড়া, ওটা কাঞ্চনজঙ্ঘা, এখন মেঘে ঢেকে আছে, শীতকালে যখন ভোরে সূর্যের আলো পরে মনে হয় এক ফালি সোনার টুকরো আকাশ ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে আছে, এবার বা দিকে চলো, দেখো সামলে, এই ঢালান দিয়ে নামলেই নদী, আমরা তো দৌড়ে নেমে যাই,  দেখো নদীর পারে কত পাথর তুলে রেখেছে, আমার পাথরের উপর বসে সূর্যাস্ত দেখতে খুব ভালো লাগে, কেমন লাল রঙের টিপের মতো হয়ে যায়, ঠিক যেমনটি আমার মায়ের কপালে সিঁদুরের টিপ. নদীর ধার ধরে এগিয়ে গেলে কুলের বন, সব ছোট ছোট কুলের গাছ, কিন্তু খুব ভয়ের, কেউ যায় না, ওখানেও ভূত আছে, ওটার পাশেই তো কবরখানা, আমায় বাবুন বলেছে, আরে ওই তো বাবুন, কি রে বাবুন কোথায় যাচ্ছিস রে?  বাবুন আমার ক্লাসে পড়ে। আমার খুব ভালো বন্ধু। ওই দাস পাড়ায় ওদের বাড়ি।  জানত আমাদের স্কুলে বসার বেঞ্চ নেই,  আসন নিয়ে যেতে হয়, মাটিতে পেতে বসার জন্যে। কারা যেন আমাদের স্কুল আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিলো, সব বেঞ্চ পুড়ে গেছে। 

একদিন কি হয়েছে জানো, পড়া মুখস্ত হয় নি, এদিকে মাস্টারমশাই পড়া ধরেছে, আমি বইটা নিচে খুলে রেখে মাথা নিচু করে বই দেখে পরে যাচ্ছি - 

পাল্কী চলে !
পাল্কী চলে !
গগন-তলে
আগুণ জ্বলে !
স্তব্ধ গাঁয়ে
আদুল্ গায়ে
যাচ্ছে কারা

রৌদ্রে সারা !     

হটাৎ মাস্টারমশাই কিছু না বলে হেড মাস্টারমশাই কে ডেকে এনে দেখিয়ে দিলেন, কি লজ্জা বলো, কিন্তু আমি তো তখন পালকি নিয়ে চলেছি মাঠ ঘাট পেরিয়ে। 

[পাল্কির  গান - হেমন্ত ]

পুজো এলে কি আনন্দ হয় না, বাবা নতুন জামা কিনে দেবে, ঠাকুর দেখতে যাবো, ভীষণ মজা হয়. মহালয়ার দিন অন্ধকার থাকতে থাকতে উঠে আমি মায়ের সাথে বাপ্পাদের বাড়ি যাই মহলয়া শুনতে, আমাদের বাড়িতে তো রেডিও নেই।  ভোরের আলোয় কাঞ্চনজঙ্ঘা টাও ঝলমল করে ওঠে, অন্য সময় তো মেঘের জন্যে দেখা যায় না, এই যে আমাদের বাড়ির সামনে ফাঁকা জায়গা টা দেখছ এখানে পুজোর সময় কাশফুলে ভরে যায়, একদম দুধের নদী মনে হয় তখন, হওয়ার দোলায় যখন ঢেউ ওঠে আমার মনে হয় সাঁতরে ওপারে চলে যাই, কিন্তু আমি তো সাঁতার জানি না, জানো আমার সব বন্ধুরা জানে, তাই বর্ষাকালে মা আমাকে যেতে দেয় না নদীতে।  কি ভীষণ স্রোত কি বলবো, কিন্তু গরম কালে হাঁটু জল থাকে, তখন নদীতে ঝাপাতে খুব আনন্দ হয়, বাড়িতে কেউ বেড়াতে এলে তার হাত ধরে নদীতে চলে যাই, তখন মা বাধা দেয় না, (নদীতে স্নান করার সময় সাথে না ছোট বাটি তারপর একটা কাপড় বেঁধে মুখে একটা ফুটো করে উপরে কিছু আটা মাখিয়ে দিতাম। আর সেগুলোকে নদীর জলে বসিয়ে দিতাম। স্নান করে উঠে আসার সময় বাটিগুলোকে নিয়ে আসতাম ততক্ষণে বাটি ভর্তি মাছ জমা হতো। ) এই পুকু তুই আমার বাটিতে হাত দিবি না. পুকু খুব দুষ্টু . তোমরা কোনদিন এমন ভাবে মাছ ধরেছ? 

দেখতে দেখতে কালী পুজো এসে যায়, কালী পুজোতে সবাই বাড়ির সামনে মাটি দিয়ে পাহাড় তৈরী করে, কত রকমের পাহাড়, রাস্তা, নদী সব, রাস্তার উপর ছোট ছোট খেলনা গাড়ি - ঝর্ণা সব।  যাদের অনেক টাকা তারা অনেক বড়ো বড়ো পাহাড় তৈরী করে, আমি, পিকু আর বাবুন মিলে পাহাড় বানাই আমাদের বাড়ির সামনে বড়ো গাছটার নিচে। যাদের টা ভালো হয় তারা প্রাইজ পায়. দেখবে আমিও একদিন এই বড় পাহাড় বানাবো.

আমার পছন্দের কথা তো বলাই হয় নি, আমার ঘুরি ওড়াতে খুব ভালো লাগে, মা বলে তুই আমার ছেলে না মেয়ে সেটা বুঝে পাই না. বড় হচ্ছ এবার একটু শান্ত হও. 

আমি কি করবো আমার তো মনে হয় ঘুরির মতো ওই দূরে আকাশে ভেসে বেড়ই, তারপর সুতোটা কেটে গেলে সোজা পৌঁছে যাবো ওই পাহাড়ের কাছে, কেমন মজা হবে বলো (গান : দূরে কোথাও দূরে দূরে). আমাদের পাড়ায় নিতু কাকুর ঘুড়ির দোকান আছে, আমি যাই না, মা বারণ করেছে, বাবার সথে কি নিয়ে যেন নিতু কাকুর একটা ঝামেলা হয়েছিল. সেই থেকে যাওয়া বারণ. আমার কি ইচ্ছে করে জানো, মা যদি একটা কিনে দিত.

বিকেলে সবাই ঘুরি ওড়ায় আমাদের বাড়ির সামনের মাঠে, আমার নেই, আমি কখনও বাবুনের, কখনও বাপ্পার ঘুরির সুতো ধরে টানি, মা কে বললে বলে মেয়েদের ঘুরি ওড়াতে নেই, কেনো বলত ছেলেরা যা করে মেয়ে রা কেনো করতে পারবে না, আমি নিতু কাকুর দোকানের সামনে দিয়ে যাই আর দেখি কত রঙের ঘুরি সাজানো, সেদিন কি হয়েছে জানো? আমি দোকানের সামনে দিয়ে আসছি, দেখি রাস্তায় একটা ঘুরি পরে আছে, আমি তুলে নিয়েছি, অমনি কোথা থেকে ভানু দাদা, নিতু কাকুর বড় ছেলে আমাকে ধরে বলে, কি রে তুই ঘুরি চুরি করলি, আমি বললাম না আমি তো রাস্তায় পেলাম, সে শুনবেই না, নিতু কাকু ছুটে এলো ভেতর থেকে, আমার হাতে ঘুরি দেখে রেগে আগুন, তুই চুরি করেছিস, আমি বলি না আমি চুরি করিনি, সে শুনবে না, আমার কান ধরে এক চর, আমি কাঁদতে থাকি, বলে যেমন বাবা তেমন মেয়ে, পাড়ার লোক জড়ো হয়, খবর চলে যায় মায়ের কাছে, মা ছুটতে ছুটতে আসে, আমি যত বলি আমি চুরি করি নি, কেউ শোনে না, মা প্রথম বার আমার গায়ে হাত তোলে, চুলের মুঠি ধরে বাড়ি নিয়ে আসে, আমি যত বলি মা আমি চুরি করিনি, আমি পেয়েছি. কেউ শোনে না আমার কথা. 

 মা আমি চুরি করিনি, তুমি জানো আমার ঘুরি ওড়াতে ভালো লাগে, আমি দেখেছি, কাকু ছিলনা দোকানে,  আমি রাস্তায় ঘুড়িটা কুড়িয়ে পেয়েছি, আমি চলে যাচ্ছি, আমায় ক্ষমা করো, আমি বলেছিলাম আমি নদী হতে চাই, নদী আমায় ডাকছে.

নদীতে তখন গভীর জল থই থই করছে, আমি দৌড়ে যাই নদীর দিকে, আমি বলেছিলাম না আমি নদী হব, আমি নদী হলাম . আমায় আর কেউ খুঁজে পাবে না.

আমি সারাদিন দুস্টুমি করি, 

ছেলেদের মতো করি ঘোরাঘুরি,

মা সবটাই জানে।

রাস্তার ধরে ডাংগুলি খেলি,

ছেড়া ঘুড়ি নিয়ে মারামারি জুড়ি  

মা সব কিছু জানে।  

যত ছোটাছুটি যত আবদার,

কোনো কিছুতেই বাঁধা নেই তার,

শুধু একটাই কথা বার বার করে,

সূর্য ডোবার আগে ফিরে এস ঘরে। 


     

  

Tuesday, October 22, 2024

যদি খুঁজে পাও এমন হৃদ্স্পন্দন,

ঝড় থামিয়ে যা শান্ত করে মন। 

আঁকড়ে ধরো সর্ব শক্তি দিয়ে,

 ভীড়ের মাঝে যেন না যায় হারিয়ে


Wednesday, June 1, 2022

 এক পলকে এপার থেকে ওপারে,

কে জানে কোনটা বেশি সত্যি, 

এপার না ওপর ?

যারা এপারে আছি এখনো 

অতৃপ্তি, হিংসা, অহংকারে, অভিমানে, 

আত্মগরিমায় ভুলে থাকি সব। 

ভাবুক হই; যখন চোখের সামনে 

মুহূর্তে কেউ চলে যায় 

এপার থেকে ওপারে। 

আবার ভুলে গিয়ে ভেসে যাই, 

ভাসতে থাকি কোন এক পলকের অপেক্ষায়। 

কে জানে কোনটা বেশি সত্যি,

এপার না ওপার ?

  


 

Wednesday, December 29, 2021

 

আছি অথচ নেই

এই পরিবারে আমি সবচেয়ে অবহেলিত। আমার থাকার কোনো নির্দিষ্ট জায়গা নেই। বাকিদের সকলের আছে। বাড়ির লোকের উপর নির্ভর করে আমি কখন কোথায় থাকবো । নিয়ে বাকিরা সবাই হাসাহাসি করে, আমি জানি। বিশেষ করে ওই বেটে মোটাটি যার মুখে ভিষণ ধার। আমার সাথে কি যে শত্রুতা বুঝিনা।  আর এখানে কিছু চামচা আছে, আর এক জন আছে কথায় কথায় চিম্টি কাটে।  এদের সকলের থাকার  নির্দিষ্ট জায়গা আছে, আমার নেই। কিন্তু, এমন অবস্থা আমার সবসময় ছিল না।  বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমার কদর কমেছে। 

কাজে কর্মে তেমন দক্ষতা আর নেই, গায়ের রঙ ফিকে হয়ে গেছে, যদিও  ওটাই আমার গর্ব ছিল এক সময়।  বাড়িতে আছি কতদিন হোল মনে নেই। ঠাকুমা, বাবা, মা   ছোট্ট বোনকে নিয়ে আমাদের সংসার। যখন এলাম তখন কত যত্ন, আমার সুন্দর একটা জায়গা ছিল থাকার। যবে থেকে বাড়ির সব ঘর গুলো নতুন করে সাজানো হলো তখনই আমার ঘর ভাঙলো। অথচ আমি কি করিনি বাড়ির  সকলের জন্যে। এখনো করে যাচ্ছি। মায়ের, বৌদির, বোনের বিভিন্ন কাজেতেই আমার ডাক পরে, তার পরেও এই অবহেলা সহ্য করতে হয়, মাঝে মাঝে মনে হয় চলে যাব এই বাড়ি থেকে, শুধু ঠাকুমার জন্যে মন খারাপ হয়। দাদার কথা কি আর বোলবো, কত কাজে ব্যবহার করে আমাকে তার হিসেবে দিতে রাত ভোর হয়ে যাবে। আমি তো কাউকে বলি না, মাঝে মাঝে লুকিয়ে আমাকে বাথরুমে নিয়ে যায়, বলে গোঁফ কেটে দে। মা জানলে আস্ত রাখবেন না। এই তো কিছু দিন আগে আমাকে দিয়ে স্ক্রু টাইট করতে গিয়ে একটা আঙ্গুলে চোট লাগলো। কি আর বলবো, কেন বাবা আমার যা কাজ আমাকে দিয়ে তাই করাও, সব কাজ কি আমি পারি, বয়স হয়েছে না। সকাল হলেই আমাকে ঠাকুমার দরকার হয় দুধের প্যাকেট কেটে জ্বাল দেবার জন্যে তারপর যেমন যেমন কাজ আসে করি। বাকিদের কাজের পর সবাই যে যার ঘরে  চলে যায়, আমার কোন ঘর নেই বিশেষ করে তো ধার মুখোকে তো সবাই সমঝে চলে, কখন কি করে দেবে কেউ জানে না তাই ওর জায়গা কখন বদলায় না। আর আমি থাকি বাড়ির লোকের দয়ায়। মাঝে মাঝে তো এমন হয় যে দুদিন ধরে আমায় খুঁজেই পায় না। তখন ধারমুখো আমার কাজ গুলো করে দেয়, আর ওর কদর বারে। এইতো সেদিন চামচেটার এক ধাক্কায় শোকেসের পেছনে চলে গেলাম। দুদিন সেখানেই ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলাম। আমার মনে হয় ঠাকুমাই আমাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন, আমায় না পেলেই বাড়ি মাথায় করেন সবাইকেই বকাবকি করেন, কিন্তু কে কার কথা শোনে।  কেন যে আমার একটা মাথা গোজবার জায়গা নেই। শুরুতে সবাই খেয়াল রাখতো যখন আমার বয়স কম ছিল, এখন  কাজ করলেও কদর নেই, পুরোনো হয়ে গেছি যে।

তবে আজ যা হলো, আমার হয়তো বাড়ি আর ফিরে আসা হবে না। সকালে মায়ের কাজ করে একটু বিশ্রাম নিচ্ছি পাশে  কতগুলো কাটা সব্জির খোসা রাখা। নমিতা এসে আমায় সমেত খোসাগুলো নিয়ে ময়লার বাক্সে ফেলে দিলো। বাঁধা দিতে গেলাম পারলাম না। মনে মনে প্রার্থনা করলাম  আজ যেন আমার কেউ খোঁজ করে, কারো যেন দরকার হয় আমায় আজ।  দুঃখে ক্লান্তিতে চোখ বন্ধ হয়ে আসে।  মনে পড়ে যায়  বাড়িতে কাটানো দিনগুলোর কথা। কত সময় কেটে গেছে জানি নাহটাৎ এক ঝাকুনিতে জেগে উঠি। আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাই। এই তো আমায় খুঁজে পেয়েছে।  ভালো করে চেয়ে দেখি থলে সমেত আমাকে ময়লার গাড়িতে ছুঁড়ে ফেলা হলো। গাড়ি এগিয়ে যাচ্ছে পরের বাড়ির দিকে। 

ঠিক শুনতে পেলাম রান্নাঘর থেকে ঠাকুমা বলছেন "কাঁচিটা কোথায় গেলো রে?"

Tuesday, February 2, 2021

পেন 

উচ্চ শিক্ষিত রুদ্র রায়।  বছর দুই হল একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সর্বোচ্চ পদ থেকে অবসর নিয়েছেন। একসময় বিভিন্ন সংস্থায় দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। অনেক লোক কে ঘোল খাইয়েছেন। অনেকের চাকরী খেয়েছেন। দেশে বিদেশে, পার্টিতে, বড় বড় ক্লাবে তাঁর নিত্য আসা যাওয়া চলত। এখনো সাথে অহংকারের একটা ভার বহন করেন, তা ওঁর চোখ মুখ দিয়ে গরম তেলের মতো চুইয়ে পরে সবসময়। সংসারী মানুষ হলেও স্বভাব অনেকটা মাছের মতো। স্ত্রী, ছেলে, বৌমা সবাই সমঝে চলে রুদ্র রায়কে। এমন কি ছয় বছরের নাতি রুমনও বাদ যায় না। ওঁর কাজের টেবিলে একটা ডাইরী, সবচেয়ে প্রিয় একটি দামি পেন, কিছু বই, সিগারের বাক্স,আরো টুকি টাকি জিনিস সবসময় ঠিক ঠিক জায়গায় সাজানো থাকে। সে ঘরে অনধিকার প্রবেশ নিষেধ। একবার ওঁর পেন ব্যবহার করে মাসের ফর্দ লিখতে গিয়ে স্ত্রী বিমলা ভীষণ ধমক খেয়েয়েছিলেন। 

রুমনেরও  খুব কৌতুহল দাদুর ঘর আর তাঁর সব জিনিসের প্রতি। মাঝে মাঝে দাদুর  অবর্তমানে গিয়ে টেবিল থেকে এটা ওটা নিয়ে দেখে। তেমনই একদিন সুযোগ পেয়ে দাদুর প্রিয় পেন দিয়ে নিজের কাগজে আঁকিবুকি কেটে চলে আসে। কিছুক্ষন বাদে রুদ্র রায় ফিরে আসেন। 

'কে আমার ঘরে ঢুকেছিলো?', হুঙ্কার শোনা যায়।  বিমলা ছুটে আসেন, সাথে কাজের লোক ও বৌমা।  

'কে আমার পেনে হাত দিয়েছিলো? টেবিলের উপর পেনটা ঢাকনা খোলা পরে থাকতে দেখেন সকলে। রুমন মায়ের আঁচলে মুখ লুকোয়।  

সেদিন একেবারে তুলকালাম কান্ড। সবাই কে জেরার পর জানা গেলো যে রুমনকে ওই ঘরের দিকে যেতে দেখা গিয়েছিল। ছেলে বৌমাকে এমন কি বিমলাকে তার জন্যে অনেক কথা শুনতে হয়েছিল সেদিন। তার পর থেকে দাদুর ঘরে লুকিয়ে যাওয়াও বারণ হয়ে গেল রুমনের।  

আজ প্রায় ছ'মাস হলো রুদ্র রায় গত হয়েছেন। সেই ঘরে যাবার আর কারো কোনো বিধি নিষেধ নেই। রুমন এখন আট। একদিন দাদুর ঘরে খেলতে খেলতে খাটের কোণে হটাৎই সেই বহু আকাঙ্খিত পেনটা ধুলোমাখা অবস্থায় পরে থাকতে দেখে।  

হাতে তুলে রুমন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে পেনটার দিকে।



Friday, January 29, 2021

এপ্রিল ফুল 

সুভাশিষ 

অফিস থেকে ফিরে আমার একটাই কাজ। হাত মুখ ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে, পাজামা পরে টিভির সামনে এক কাপ চা নিয়ে বসা, আর খবরের চ্যানেল দেখা, সন্ধ্যে আটটা থেকে রাত এগারোটা পর্যন্ত।  তখন কেউ বিরক্ত করুক ভালো লাগে না। সেটা আমার বন্ধুরা জানে, তাই সাধারণত কেউ ওই সময় বাড়িতে আসে না বা ফোন করে না। 

সেদিন হটাৎ সুবিমল এসে হাজির। হাতে মিষ্টির ঠোঙা। ও নাকি বিএমডাব্লিউ কিনেছে তার পুজো দিয়ে এলো। আমি তো অবাক, কারণ ওর এলেম অজানা নয়। বললাম গাড়ি দেখা, বললো কাল নেবো। 'কাল আমার সাথে তোকে যেতে হবে', আমি এক কথায় রাজি । অফিস বাদ দিয়ে ওর সাথে গেলাম। 

অনেক ঘুরে এক সাইকেলের দোকানে ঢুকে একটা নতুন সাইকেল ডেলিভারি নিলো। কোথায় বিএমডাব্লিউ? আমার মাথায় রক্ত উঠে গেলো, নেহাত ছোট বেলার বন্ধু। বললাম এটা কি হলো? 

সুবিমল বললো এপ্রিলফুল।  ফেব্রুয়ারি মাসে এপ্রিলফুল? রাগে আমার মাথায় আগুন জ্বলে উঠলো। 

ও বললো তোর তো প্রতিদিনই এপ্রিল ফুল ডে। 

কেন? 

ওই খবরের চ্যানেল গুলো তো তোকে প্রতিদিন এপ্রিলফুল করছে। 


Friday, January 1, 2021

 

কুড়ি কিম্বা একুশ শুধুই একটি সংখ্যা,

দিনতো সেই আসবে যাবে

মনের ভেতর থাকবে জমে আনন্দ বা শঙ্কা।

নতুন বছর প্রথম দিন, উত্তেজনায় যায় ভেসে,

ধীরে ধীরে যায় হারিয়ে

গতানুগতিক জীবনধারা দিনগুলিতে যায় মিশে।

আজকে থেকে ভাবনাগুলো একে বারেই বদলে দেব,

প্রতিদিন কে নতুন ভাবে,

অনন্ত এক সম্ভাবনায় মুহুর্তকে সাজিয়ে নেব।  

Friday, April 10, 2020

লকডাউন
কিছুদিন ধরেই শুনছিলাম, চীন এ নতুন ভাইরাস এসেছে, নানা রকম গুজব ছড়াচ্ছে, কেউ বলছে বাঁদুড় থেকে এসেছে, কেউ আবার অন্য কথা বলছে ।  নেট এ, হোয়াটসআপ এ না না রকম ছবি ছড়িয়ে পড়ছে। করোনা নিয়ে নানা জোকস ও শেয়ার হচ্ছে।  তখন ভাবি নি আমাদেরও এক চরম পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। হটাৎ করে সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করা হলো। সব বন্ধ। কেউ বাড়ির বাইরে যেতে পারবে না।  প্রথম প্রথম বেশ উত্তেজনা লাগছিলো, সেই কর্ম জীবন শুরু হওয়ার পর কোনোদিন এমন ভাবে বাড়িতে থাকতে পারিনি।  প্রথম ১৫ দিন বেশ কাটলো। আবার ১৫ দিন ঘোষণা হলো। জীবনের সব দিন বা সব মুহূর্ত ভালো কাটবে তেমন কোনো নিয়ম নেই। যদিও ভালো মন্দ কেমন কাটবে অনেকটা আমাদের মনের ভেতরের ব্যাপার। কিন্তু দার্শনিক কথা সব সময় ভালো লাগে না, বিশেষ করে সময় খারাপ গেলে। ঘরে বসে অফিসের কাজ, যোগাযোগ সব মোবাইল নির্ভর।  জিনিস না থাকলেই তার মর্ম বোঝা যায়, সেটা বুঝলাম যখন একদিন সকালে মোবাইল লকডাউন ঘোষনা করলো। আঙুলের চাপ নিতে না পেরে করলো চোখ বন্ধ। একেই বন্দি জীবন, তার উপর এই দুর্ঘটনা, সব যোগাযোগ ছিন্ন। ভীষণ রাগ হলো, কিন্তু কিছুই  করার নেই। এই পরিস্থিতি তে মানুষ অন্যের উপর দোষ দিয়ে একটু শান্তি পায়। একটা মূল্যবান নির্জীব বস্তুর উপর আর কি রাগ দেখাবো। দিশেহারা অবস্থা। ঠিক তখন দেখি একটা আরশোলা চিত হয়ে শুয়ে হাত পা ছুঁড়ছে, মনে মনে বললাম এমন তো আমার করার কথা, তোমার কি হোলো? একটা লাল পিঁপড়ে পায়ে কুটুস করে কামড়ে বলে নিজের চড়কায় তেল দাও। পিঁপড়ে! আমাদের থেকে কমজোর জীব, সে মানুষ বা অন্য প্রাণী  যাই হোক, আমরা শাস্তি দিতে পারলে ভীষণ আনন্দ পাই।  সেই কারণেই পিঁপড়েটাকে আঙ্গুল টিপে মারতে যাব, একটা বোলতা আমার দিকে একপাক ঘুড়ে শাশিয়ে গেল, খবরদার! মাথা নিচু করে বাঁচতে গিয়ে, টেবিলের কোণায় খেলাম গুতো, সামলে নিয়ে চেয়ারে বসতেই, হাতল ভেঙ্গে পড়লাম মেঝেতে, মাটিতে পরে থাকা পিন সোজা গিয়ে ফুটলো হাটুতে, ব্যাথায় আঃ করতে গিয়ে মুখ হয়ে গেল হা, বন্ধ করতেই কামড় পড়ল জিবে, রাগের চোটে হাত ছুড়তেই, টেবিলে থাকা জল ভর্তি গ্লাস পড়ল মাটিতে। পোছা আনতে গিয়ে পিছলে পড়লাম আবার, কোমড়ে লাগল চোট, উঠে দাঁড়াতেই, পায়ে আটকে পাজামার দড়ি গেল ছিঁড়ে। ভাবছি আর কত, মনের ভেতরে কে যেন ম্যারাথন দৌড়াচ্ছে, অথবা কেউ বসে হাতুরি দিয়ে অনবরত পাথর ভেঙ্গে চলেছে, থামছে না, মনে হচ্ছে মাথাটা বিগব্যাং এর মত ফেটে চারিদিকে গ্রহ নক্ষত্র সব ছড়িয়ে পড়বে। 
এভাবে চলতে পারে না, এর শেষ নেই। এর থেকে বেরোতে হবে, জানি এবার ভেতরে দেখার সময় এসেছে, যখন বাহ্যিক পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়, আর কোনো উপায় থাকে না, বোধহয় এক ধাপ এগোবার সময় তখনই আসে। ধীর পায়ে ব্যালকনিতে গিয়ে দাড়ালাম, বসন্তের মলয় বাতাস ভালবাসা বুলিয়ে দিল গায়ে, মাধবিলতার ফুলের বাহার ছুঁয়ে গেল মন, গন্ধরাজের সুবাস, নীল আকাশ, কোকিলের ডাক, সবাই বলল আজ থাক, এস আমাদের কাছে, শান্ত হয়ে বসো কিছুক্ষণ, বুকে ভরে শ্বাষ নাও । চলাফেরার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠো, মনের তো সীমা নেই, ছোটাও তাকে, অসীমের মাঝে খুঁজে পাও নিজেকে। দেখলাম আরশোলাটা অনেক চেষ্টার পর, সোজা হয়ে, এগিয়ে চলছে নিজের গন্তব্যের পথে।
শুভাশিষ

Thursday, March 21, 2019

মেট্রো ডায়েরি - ৪


আজ মেট্রোতে সাধারণ দিনের তুলনায় একটু ভিড় কম থাকায়, বসার জায়গা পেয়ে গেলাম। বসেই মোবাইল পকেট থেকে বের করে সোশাল নেটওয়ার্কে হাত বোলাতে লাগলাম, এ এমন এক স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে যে কি আর বলবো, ঠিক আগে দেখতাম কেউ কেউ বাস বা মেট্রো তে উঠেই হনুমান চালিশার ছোট বই বের করে পাঠ করতো, অনেকটা তেমন, বার বার একই ছবি একই খবর উপর নিচে করতে থাকা, যতক্ষণ নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। যাইহোক, কিছুক্ষন বাদে মোবাইল পকেটে রেখে, বই বেরকরলাম। পড়ার ফাঁকে উল্টোদিকের সিট্ এ চোখ পড়তেই আঁতকে উঠলাম, একটি কম বয়সী মেয়ে বসে আছে, তার সামনে কেউ একজন দাঁড়িয়ে থাকায় তার হাত টা শুধু দেখতে পাচ্ছিলাম । একটু ঝাকুনিতে তার গলা ও মুখের কিছুটা গোচরে এলো। এ কি? এই অবস্থায় কেউ বাইরে আসে? গত সপ্তাহে নার্সিংহোমে এমন এ একজন কে দেখেছিলাম, জন্ডিসের রুগী। সারা শরীর হলুদ হয়ে গেছে , মেয়েটির ও একই অবস্থা। এই সময় তো একদম বেরহওয়া উচিত নয়।  কি এমন অসুবিধা যে এই পরিস্থিতিতেও কাজে যেতে হবে। মানুষের জীবনে কত বাধ্য বাধকতা থাকে আমরা তার কতটুকু জানি। তার পরিস্থিতির কথা ভেবে কষ্টই পাচ্ছিলাম, মনে মনে তার সুস্থতার কামনা করছিলাম। কয়েকটা স্টেশন পর মেয়েটি উঠে আমার দিকের দরজার কাছে এগিয়ে গেলো, পরের স্টেশন এ নামার জন্যে। এখন কাছে থেকে দেখতে পেলাম মেয়েটি কে।
একদম ভুলে গেছিলাম যে গতকাল হোলি ছিল।

অণুগল্প

Friday, December 7, 2018

সে আজ আঠেরোর প্রাপ্তবয়স্ক,
আগের মতো উচ্ছলতা,
চঞ্চলতা, অবুঝতা নেই।
শান্ত, ধীর, স্থির।
সে আজ আঠেরো।
অনেক ঝড় জল পেরিয়ে,
অনেক মান অভিমানের
গন্ডি পেরিয়ে সে আজ আঠেরো।
এখনো অনেক পথ বাকি
মসৃন বা আঁকাবাঁকা যাই হোক।
সাতপাকে বাঁধার আজ সাত।
হাতে হাত আরও অনেক দিন অনেক রাত।





Friday, November 23, 2018

টিকে থাকার লড়াই এ
নতুন নতুন শেকড় গজায়,
আঁকড়ে ধরতে চায় মাটি
আরো শক্ত করে।
শ্যাওলা ধরা পুরোনো শেকড়
পৌঁছতে চায় আরো গভীরে।
বাঁধা ঠেলে যত এগোয়, 
পাতা আরো ঘন সবুজ হয়। 
সহজ নয় আকাশ ছোঁয়া
যন্ত্রনা, ব্যর্থতা সব
অন্ধকারে মাটির গভীরে রয়।





Saturday, November 3, 2018


মেট্রো ডায়েরি - ২

মেট্রোতে আমার পাশে বসা
ছেলেটি রেগে ফোনে বললো
আন্দামানের সব ছবি আগে ফোন থেকে ডিলিট করো
তারপর কথা বলবো।
ওপার থেকে কি উত্তর এলো জানি না
ছেলে টি আরও রেগে গিয়ে বললো
আমি বলছি ও নিয়ে কথা হবে না,
যদি আন্দামানের সব ছবি ডিলিট করো
তাহলেই কথা বলবো, না হলে ফোন করো না।
খট, ফোনে কেটে দিয়ে এয়ার প্লাগ কানে দিয়ে গান শুনতে লাগলো।

কিছুক্ষন বাদে আবার ফোন,
ডিলিট করো নি? না আমার, ফ্যামিলির কারো ছবি চাই না
কি অসুবিধা ছবি ডিলিট করতে? করলে তবেই কথা হবে।
আবার খট। এয়ার প্লাগ কানে আবার মন গানে।

আবার ফোন
কি সব ডিলিট করে দিয়েছো ?
সব ? ঠিক বলছো?
আমি তোমায় বিশ্বাস করি না।
খট।
এয়ার প্লাগ কানে আবার মন গানে।

ততক্ষনে আমার স্টেশন এসে গেছে,
এই বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলায় দুলতে দুলতে
অফিস চললাম।


Monday, October 8, 2018

মন টা কেমন সুতো কাটা ঘুড়ির মতো
গোত্তা খেতে খেতে দিশেহারা হয়ে
এদিক থেকে ওদিক ঘুরে বেড়ায়।

বাগে আনতে কতবার জুড়েছি সুতো,
বার বার ছিড়েছে,
খোঁচা খেয়ে ছিন্ন ভিন্ন হয়েছে কতবার। 

কখনো মগডালে আটকা পরে
প্রাণপণ চেষ্টা করেছে নিজেকে ছাড়াবার,
আবার নামিয়ে এনে জুড়েছি সুতো।

এই জোড়া আর ছেঁড়ার খেলায়
সময় বয়ে যায়,
শক্ত হয় সুতোর বাঁধন। 


   


Friday, September 21, 2018

পঞ্চাশ তো ছুঁই ছুঁই,
তবুও ছেলে মানুষি গেলো না,
প্রজাপতি ধরতে যাও
বৃষ্টি হলে ভিজতে  চাও,
গাছের ডালে দোল খাও।

এখনো ছেলে মানুষি গেলো না,
লজ্জাবতীর পাতা ছুঁয়ে দেখো,
আম পাতার বাঁশি,
আর চোরকাঁটার গান,
কুচ ফলে চোখ,
কত দিন আর এসব।

অনেক হয়েছে এবার স্যুট বুট পড়ো,
চুলটা পাট করো,
অফিস ব্যাগ টা নাও,
খাঁচার মধ্যে যাও।










Wednesday, July 25, 2018

বহুদিন হলো স্পার্ক প্লাগের দিকে নজর দেওয়া হয় নি,
ময়লা জমে জমে কেমন অচল হতে বসেছে। 
মাটিতে বুক ঠেকিয়ে কেমন সরীসৃপের মতো চলছে,
একরকম জোর করে টেনে নিয়ে যেতে হচ্ছে।
সময় নেই, সময় নেই করে দিন চলে যায়
যে কোনো দিন মুখ থুবড়ে পড়বে, ব্রহ্ম মুহূর্তের অপেক্ষায়। 
এখন এই মুহূর্তে দরকার, শুধু একটা স্পার্ক,
আবার  মাথা উঁচু করে ছুট দেবে আলোর পথে।

Wednesday, June 27, 2018

জীবন টা কেমন ধীরে ধীরে নারকেলের মতো হয়ে গেছে
আগে ছিল টলটলে মিষ্টি একটা মন, বাইরে  সবুজ আবরণ
চাইলে যে কেউ সহজেই ছুঁতে পারতো।
আজ বাইরের আবরণ কেমন শুকিয়ে গেছে,
শুধুই অবাঞ্ছিত ছোবড়া,
মনটা একটা শক্ত প্রাচীরে ঘেরা,
সহজে নাগাল পাওয়া যায় না।
কঠিন আঘাত না করলে বোঝাই যায় না,
সে যে আজও টলটলে মিষ্টি রয়ে গেছে।


Monday, April 23, 2018

কলজে - শুভাশিষ

অরে লাগ্ লাগ্ লাগ্ , লাগ্ ভেলকি লাগ্। কালো রঙের জোব্বা পড়া লোকটা হাতে একটা ছোট লাঠি নিয়ে চেঁচিয়ে যাচ্ছে, ঝাকড়া ঝাকড়া মাথা ভর্তি চুল, মুখের মধ্যে অজস্র ডাগ, দেখলে কেমন যেন ভয় ভয় করে, এই বোধহয় ব্যাগে পুরে নিয়ে চম্পট দেবে। তাকে গোল করে ছেলে বুড়ো বাচ্চা সব দাঁড়িয়ে আছে। লোকটির সাথে একটা সাত আট বছরের ছেলে হাতে একটা থালা নিয়ে বাজিয়ে যাচ্ছে। 
আবার কোথাও রিক্সায় বসে একটি লোক মাইকে হিন্দি গান বাজিয়ে বিড়ি বিক্রি করছে, আর তার সাথে দুটি ছেলে, একজন মেয়ে সেজে, ওরা বলে ধর্মেন্দ্র আর হেমামালিনী, হিন্দি গানের সাথে নেচে ভিড় জমাচ্ছে। কোথাও বা একজন ভাগ্য ভালো করার তাবিজ বিক্রি করছে। ঠিক যেন মেলা বসেছে।  
আজ বৃহস্পতি বার, হাট বসেছে, সপ্তাহে দুদিন হাট বসে, বৃহস্পতি আর রবিবার। বিভিন্ন জায়গা থেকে কত ধরণের লোক আসে, খেলা দেখাতে,  জিনিস বিক্রি করতে। আসে পাশের মফস্বল থেকে সবাই আসে হাট করতে। কেউ কিনতে কেউ বেঁচতে। 
উত্তরবঙ্গের একটি ছোটো গ্রাম 'রাজগঞ্জ', মানে রাজাদের গঞ্জ। সবুজে ঘেরা গ্রাম, চারিদিকে ধান ক্ষেত, পাট ক্ষেত, আনারস বাগান, মাঝখান দিয়ে পাহাড়ি নদি করতোয়া বয়ে চলেছে, কাঁচের মত স্বচ্ছ জলে ছোটো ছোটো মাছের খেলা, নিচে পাথর আর বালি সব পরিস্কার দেখা যায়, দূরে মাথা উচুকরে হিমালয়  দাঁড়িয়ে আছে। গোগলের জন্ম বেরে ওঠা এখানেই। উত্তরের আকাশ যেখানে মিশেছে পাহাড়ের কোলে, সবুজ পাহাড় হয়ে গেছে নীল, শীতের সকালে যখন সুর্যের আলোয় কাঞ্চণজঙ্ঘা সোনালি আভা নিয়ে ঝলমল করে, রাতে পাহাড়ের গা বেয়ে যখন গাড়ি ছোটে, দুর থেকে তার আলো দেখে মনে হয় যেন শুন্যে ছুটে চলেছে কোনো আলোর পোকা। কুচকুচে অন্ধকারে জোনাকীর আলো, গোগোল কে ছুটিয়ে নিয়ে যায় এক স্বপ্নের জগতে। তখনো গ্রামে বিদ্যুৎ আসে নি। কৃষ্ণপক্ষ মানে মিশমিশে অন্ধকার। এক হাত দূরে কেউ দাঁড়িয়ে থাকলে দেখা যায় না, তেমন আবার জোৎস্না রাত ভেসে যায় আলোর বন্যায়। সে যেন এক স্বপ্নপূরী। 
হাটের দিন গোগলের মন পরে থাকে হাটে যাবার জন্যে, কত লোক কত কত মজার জিনিস বিক্রি করতে নিয়ে আসে, কত মজার খেলা।
এই বাজারেই গোগলদের দোকান, হাটের দিন বিকেলে দোকানে এসে বাড়ির জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার  কাজ গোগোলের। সেদিন দাদারা ব্যস্ত থাকে, তাই এই কাজটা গোগোলকেই করতে হয়। তার মজাও লাগে। কত ধরনের লোক আসে এই হাটে।  কত কি বিক্রি হয়। ধান, গম, পাট, গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগী আরো কত কি।
গোগোল দের দোকানের সামনেই সাদা ধুতি পাঞ্জাবি পরা একটি লোক কালো ব্রিফকেস নিয়ে এসে দাড়াতেন হাটের দিন।
হাঁক দিতেন, 'দাদারা হাত কাটা তেল, কেটে যাক, পুড়ে যাক, কোন ভয় নেই, ঘরে রাখুন একটি হাত কাটা তেলের শিশি'। সেই তেলের কি গুন তা বোঝাবার জন্যে নিজের কবজিতে সেই তেলের মত মলম টি  লাগিয়ে নিতেন, আর তারপর একটা ধারালো ছুরি বসিয়ে দিতেন সেই খানে। রক্ত বের হত না, শুধু একবার নয়  বারবার সেই খেলা দেখাতেন,  খেলা শেষে সবাই কিনে নিত সেই 'হাত কাটা তেল' । আর এক পাসে বসত রামপ্রসাদ মুচি, তার কাছে সাজানো থাকত গুলতি বানাবার রাবার আর চামড়া। দশ বছরের গোগোলের খুব লোভ ছিল সেই গুলতি বানাবার সরঞ্জামের প্রতি। কিন্তু দাদার মানা ছিল।
গোগোল অবাক হয়ে দেখত সেই সব মজার খেলা। আজকের দিনে টিকিট কেটেও দেখা যাবে না সেই সব।  
হাটের মাঝে সেই জোব্বা পরা লোকটা একের পর এক খেলা দেখিয়ে যাচ্ছে। সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে দেখছে তার ভেলকি। 
দাদা একটা কিছু কিনতে পাঠিয়েছে গোগোল কে, বলেছে ছুটে গিয়ে নিয়ে আসতে। গোগোল হাটের মাঝে গিয়ে দেখে লোকজন গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কৌতুহল বসে গোগল ভির ঠেলে একটু যায়গা করে দাঁড়িয়ে যায়, মনে মনে ভাবে কিছুক্ষন দেখে চলে যাবে। 

'সবাই হাতের মুঠো শক্ত করে ধরো, মুঠো খোলা চলবে না, যে যেখানে দাঁড়িয়ে আছো সেখানেই থাকো। নইলেই গন্ডগোল। আমি যতক্ষণ না বলবো ততক্ষন এই ভাবে মুঠো শক্ত করে রাখতে হবে।  নাহলে, বাচ্চারা জেনে রাখো রাতে বিছানায় হিসি কেউ আটকাতে পারবে না।', জোব্বা পড়া লোকটা চেঁচিয়ে উঠলো। কি  জ্বালা বলতো, দাদা বললো দৌড়ে গিয়ে একটা জিনিস  নিয়ে আসতে, আর সে কিনা এখানে এসে আটকা পড়েছে। কিছুতেই নড়তে পারছে না, মুখের সামনে একটা মাছি বার বার বিরক্ত করছে, তাকে তাড়াতে পর্যন্ত পারছে না, পাছে রাতে বিছানায় হয়ে যায়। কি লজ্জার কথা বলো। লোকটা অনরগোল বলে চলেছে। সবাই হাঁ হয়ে দেখছে তার কাণ্ডকারখানা। কোনো ডিগ্রিধারী এম বি এ-র ঘাম ছুটে যাবে এমন সুনিপুন ভাবে কথার মারপ্যাঁচে ফেলে লোক আটকে রাখতে। 
লোকটি তখন নাক আর কপালের খাজে একটি মার্বেল রেখে মাথা উচু করে আকাশের দিকে তাকিয়ে  আর একটি মার্বেল শুন্যে ছুড়ে দিলো। আশ্চর্য দক্ষতায় উপর থেকে নেমে আসা মার্বেলটা  তার নাকের উপরে রাখা মার্বেলের উপরে পরে দুটো মার্বেল টুকরো টুকরো হয়ে গেলো। 
ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা গোগোলের চোখ চিক চিক করে উঠলো। বাড়ি ফিরেই এই খেলাটা চেষ্টা করে দেখতে হবে। মার্বেল তো আছেই।  ঠিক তখনি জোব্বা পড়া লোকটা বলে উঠলো, বাড়িতে কেউ চেষ্টা করতে যাবে না বাচ্চারা, যদি করতেই হয় তাহলে রসগোল্লা দিয়ে প্রথমে চেষ্টা করো।
আবার হেকে উঠলো, কেউ নড়বেন, হাতের মুঠো শক্ত, নাহলে মনে আছে তো রাতে কি হবে।
এবার মারাত্মক এক খেলা, এই যে ছোট বাচ্চা দেখছো আমি তার কলজেটা বের করে দেখাবো, আবার তাকে বাঁচিয়ে দেব। কিন্তু এই খেলা চলার সময় কেউ মুঠো খুলবে না, এখান থেকে এক পাও নড়বে না। কথা না শুনলে ওকে বাঁচাতে পারবো না।
উত্তজনা টান টান। মাটিতে একটা চাদর পেতে বাচ্চা ছেলেটি নিজেই শুয়ে পড়লো  তার উপর একটা কালো কাপড়ে ঢাকা চৌকোনা বাক্স বসিয়ে দেওয়া হলো। ছেলেটির মাথা ও পা বাইরে রয়ে গেলো । শুধু বুকটা ঢেকে গেলো। লোকটা কত কি মন্ত্র পাঠ করে ছেলেটির চারিদিক ঘুরতে লাগলো, হাতে ধরা একটা ধারালো ছুরি নিয়ে। 

গোগোলের পা কাঁপতে লাগলো, পালাতে চাইছে কিন্তু পারছে না, পা যেন মাটিতে আঠার মতো আটকে গেছে। ভয় করতে লাগলো। নিজের উপর রাগ হলো, কি দরকার ছিল খেলা দেখার লোভ করার।  এখন ঠেলা সামলাও।

লোকটা হটাৎ করে ছুরিটা কালো কাপড়ে ঢাকা বুকের মধ্যে সজোরে চালিয়ে দিলো। ছেলেটির পা ছটপট করতে লাগলো। মুহূর্তের মধ্যে লোকটার হাতে উঠে আসলো রক্তমাখা কলজে।সে সেটা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সবাইকে দেখতে লাগলো। ছেলেটা নিথর পরে রইলো। লোকটা কিছুক্ষন বাদে আবার মন্ত্র পরে কলজেটি যথাস্থানে লাগিয়ে দিলো। কালো কাপড়ের ঢাকা সরিয়ে দিল। ছেলেটি ধিরে ধিরে উঠে দাড়ালো। সবাই খুশি হয়ে খুচরো পয়সা ছুড়ে দিলো মাটিতে। 
ভিড় হালকা হলো। জোব্বা পড়া লোকটা তার সাথে বাচ্চাটা পয়সা গুলো কুড়িয়ে, সব জিনিস গুছিয়ে ব্যাগে ভরতে লাগলো।   তখন ও গোগোল পাথরের মতো দাঁড়িয়ে। কখন বিকেল গড়ে সন্ধে হয়েছে, বুঝতেই পারে নি। কেন এখানে এসেছে, কি নেবার জন্যে দাদা পাঠিয়েছিল সব ভুলে গেছে। 
হাতের মুঠি আলগা করে ধীরে ধীরে দোকানের দিকে রওনা দিলো গোগোল। কে জানে কপালে কি আছে আজ ।





Wednesday, January 3, 2018

থামতে বলছি অনেকবার,
কে কার শোনে।
এতদিন ধরে এক সাথে বাস
তবুও অচেনা, অধরাই রয়ে যাচ্ছে,
অবসর নেই, সব সময় ব্যস্ত,
আকাশ পাতাল ভেবেই চলেছে।
কিছু মুহূর্তের জন্যে থামলেই
ভাবি এইতো, বাগে এনেছি।
বুঝতেই পারিনা,
কখন আমাকে বোকা বানিয়ে
আবার অন্য কোথাও পাড়ি দেয়।






Monday, January 1, 2018

প্রতিদিন ভাবি, আজ থাক,
কাল থেকে হবে।
এই ভাবে কিছু মূল্যবান মুহূর্ত, ঘন্টা, দিন, মাস
বছরের পর বছর কাটিয়ে দিলাম।
স্বপ্ন গুলো জমতে জমতে আজ পাহাড় প্রমান
কিছুতে ধস নেমেছে, কিছু চাপা পরে তলিয়ে গেছে
হাতড়ে হাতড়ে ছিঁড়ে যাওয়া সুতো থেকে বিচ্ছিন্ন
মুক্তো গুলোকে আবার এক সূত্রে গাঁথতে চাই।
বিক্ষিপ্ত মন ভাবে আজ থাক, কাল থেকে করা যাবে।
এই ভাবে বছর, যুগ কেটে যায়।
অভ্যেসের শিকড় গুলো আরও মজবুত হয়।
ভাঙা যায় না দেয়াল, ছেঁড়া যায় না শেকল।
জীবনের সব যুদ্ধ জিততে গিয়ে,
অজান্তে নিজের কাছেই হারতে হয়।



বেশ কিছুদিন ধরে  গাড়ির চাকায়  হাওয়া নেই,
সময় করে উঠতে পারছিলাম না।
আজ ফেরার সময়,
একটা হাওয়া দেওয়ার জায়গা খালি দেখে দাঁড়ালাম,
ছেলেটিকে বললাম, একটু দেখে নিতে।
ও এমন ভাবে তাকালো, যেন ভূত দেখছে।
হটাৎ ই খেয়াল হলো,
আজ তো গাড়ি সাথে নেই,
আজ তো হেঁটেই ফিরছি।