Wednesday, June 1, 2022

 এক পলকে এপার থেকে ওপারে,

কে জানে কোনটা বেশি সত্যি, 

এপার না ওপর ?

যারা এপারে আছি এখনো 

অতৃপ্তি, হিংসা, অহংকারে, অভিমানে, 

আত্মগরিমায় ভুলে থাকি সব। 

ভাবুক হই; যখন চোখের সামনে 

মুহূর্তে কেউ চলে যায় 

এপার থেকে ওপারে। 

আবার ভুলে গিয়ে ভেসে যাই, 

ভাসতে থাকি কোন এক পলকের অপেক্ষায়। 

কে জানে কোনটা বেশি সত্যি,

এপার না ওপার ?

  


 

Wednesday, December 29, 2021

 

আছি অথচ নেই

এই পরিবারে আমি সবচেয়ে অবহেলিত। আমার থাকার কোনো নির্দিষ্ট জায়গা নেই। বাকিদের সকলের আছে। বাড়ির লোকের উপর নির্ভর করে আমি কখন কোথায় থাকবো । নিয়ে বাকিরা সবাই হাসাহাসি করে, আমি জানি। বিশেষ করে ওই বেটে মোটাটি যার মুখে ভিষণ ধার। আমার সাথে কি যে শত্রুতা বুঝিনা।  আর এখানে কিছু চামচা আছে, আর এক জন আছে কথায় কথায় চিম্টি কাটে।  এদের সকলের থাকার  নির্দিষ্ট জায়গা আছে, আমার নেই। কিন্তু, এমন অবস্থা আমার সবসময় ছিল না।  বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমার কদর কমেছে। 

কাজে কর্মে তেমন দক্ষতা আর নেই, গায়ের রঙ ফিকে হয়ে গেছে, যদিও  ওটাই আমার গর্ব ছিল এক সময়।  বাড়িতে আছি কতদিন হোল মনে নেই। ঠাকুমা, বাবা, মা   ছোট্ট বোনকে নিয়ে আমাদের সংসার। যখন এলাম তখন কত যত্ন, আমার সুন্দর একটা জায়গা ছিল থাকার। যবে থেকে বাড়ির সব ঘর গুলো নতুন করে সাজানো হলো তখনই আমার ঘর ভাঙলো। অথচ আমি কি করিনি বাড়ির  সকলের জন্যে। এখনো করে যাচ্ছি। মায়ের, বৌদির, বোনের বিভিন্ন কাজেতেই আমার ডাক পরে, তার পরেও এই অবহেলা সহ্য করতে হয়, মাঝে মাঝে মনে হয় চলে যাব এই বাড়ি থেকে, শুধু ঠাকুমার জন্যে মন খারাপ হয়। দাদার কথা কি আর বোলবো, কত কাজে ব্যবহার করে আমাকে তার হিসেবে দিতে রাত ভোর হয়ে যাবে। আমি তো কাউকে বলি না, মাঝে মাঝে লুকিয়ে আমাকে বাথরুমে নিয়ে যায়, বলে গোঁফ কেটে দে। মা জানলে আস্ত রাখবেন না। এই তো কিছু দিন আগে আমাকে দিয়ে স্ক্রু টাইট করতে গিয়ে একটা আঙ্গুলে চোট লাগলো। কি আর বলবো, কেন বাবা আমার যা কাজ আমাকে দিয়ে তাই করাও, সব কাজ কি আমি পারি, বয়স হয়েছে না। সকাল হলেই আমাকে ঠাকুমার দরকার হয় দুধের প্যাকেট কেটে জ্বাল দেবার জন্যে তারপর যেমন যেমন কাজ আসে করি। বাকিদের কাজের পর সবাই যে যার ঘরে  চলে যায়, আমার কোন ঘর নেই বিশেষ করে তো ধার মুখোকে তো সবাই সমঝে চলে, কখন কি করে দেবে কেউ জানে না তাই ওর জায়গা কখন বদলায় না। আর আমি থাকি বাড়ির লোকের দয়ায়। মাঝে মাঝে তো এমন হয় যে দুদিন ধরে আমায় খুঁজেই পায় না। তখন ধারমুখো আমার কাজ গুলো করে দেয়, আর ওর কদর বারে। এইতো সেদিন চামচেটার এক ধাক্কায় শোকেসের পেছনে চলে গেলাম। দুদিন সেখানেই ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলাম। আমার মনে হয় ঠাকুমাই আমাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন, আমায় না পেলেই বাড়ি মাথায় করেন সবাইকেই বকাবকি করেন, কিন্তু কে কার কথা শোনে।  কেন যে আমার একটা মাথা গোজবার জায়গা নেই। শুরুতে সবাই খেয়াল রাখতো যখন আমার বয়স কম ছিল, এখন  কাজ করলেও কদর নেই, পুরোনো হয়ে গেছি যে।

তবে আজ যা হলো, আমার হয়তো বাড়ি আর ফিরে আসা হবে না। সকালে মায়ের কাজ করে একটু বিশ্রাম নিচ্ছি পাশে  কতগুলো কাটা সব্জির খোসা রাখা। নমিতা এসে আমায় সমেত খোসাগুলো নিয়ে ময়লার বাক্সে ফেলে দিলো। বাঁধা দিতে গেলাম পারলাম না। মনে মনে প্রার্থনা করলাম  আজ যেন আমার কেউ খোঁজ করে, কারো যেন দরকার হয় আমায় আজ।  দুঃখে ক্লান্তিতে চোখ বন্ধ হয়ে আসে।  মনে পড়ে যায়  বাড়িতে কাটানো দিনগুলোর কথা। কত সময় কেটে গেছে জানি নাহটাৎ এক ঝাকুনিতে জেগে উঠি। আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাই। এই তো আমায় খুঁজে পেয়েছে।  ভালো করে চেয়ে দেখি থলে সমেত আমাকে ময়লার গাড়িতে ছুঁড়ে ফেলা হলো। গাড়ি এগিয়ে যাচ্ছে পরের বাড়ির দিকে। 

ঠিক শুনতে পেলাম রান্নাঘর থেকে ঠাকুমা বলছেন "কাঁচিটা কোথায় গেলো রে?"

Tuesday, February 2, 2021

পেন 

উচ্চ শিক্ষিত রুদ্র রায়।  বছর দুই হল একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সর্বোচ্চ পদ থেকে অবসর নিয়েছেন। একসময় বিভিন্ন সংস্থায় দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। অনেক লোক কে ঘোল খাইয়েছেন। অনেকের চাকরী খেয়েছেন। দেশে বিদেশে, পার্টিতে, বড় বড় ক্লাবে তাঁর নিত্য আসা যাওয়া চলত। এখনো সাথে অহংকারের একটা ভার বহন করেন, তা ওঁর চোখ মুখ দিয়ে গরম তেলের মতো চুইয়ে পরে সবসময়। সংসারী মানুষ হলেও স্বভাব অনেকটা মাছের মতো। স্ত্রী, ছেলে, বৌমা সবাই সমঝে চলে রুদ্র রায়কে। এমন কি ছয় বছরের নাতি রুমনও বাদ যায় না। ওঁর কাজের টেবিলে একটা ডাইরী, সবচেয়ে প্রিয় একটি দামি পেন, কিছু বই, সিগারের বাক্স,আরো টুকি টাকি জিনিস সবসময় ঠিক ঠিক জায়গায় সাজানো থাকে। সে ঘরে অনধিকার প্রবেশ নিষেধ। একবার ওঁর পেন ব্যবহার করে মাসের ফর্দ লিখতে গিয়ে স্ত্রী বিমলা ভীষণ ধমক খেয়েয়েছিলেন। 

রুমনেরও  খুব কৌতুহল দাদুর ঘর আর তাঁর সব জিনিসের প্রতি। মাঝে মাঝে দাদুর  অবর্তমানে গিয়ে টেবিল থেকে এটা ওটা নিয়ে দেখে। তেমনই একদিন সুযোগ পেয়ে দাদুর প্রিয় পেন দিয়ে নিজের কাগজে আঁকিবুকি কেটে চলে আসে। কিছুক্ষন বাদে রুদ্র রায় ফিরে আসেন। 

'কে আমার ঘরে ঢুকেছিলো?', হুঙ্কার শোনা যায়।  বিমলা ছুটে আসেন, সাথে কাজের লোক ও বৌমা।  

'কে আমার পেনে হাত দিয়েছিলো? টেবিলের উপর পেনটা ঢাকনা খোলা পরে থাকতে দেখেন সকলে। রুমন মায়ের আঁচলে মুখ লুকোয়।  

সেদিন একেবারে তুলকালাম কান্ড। সবাই কে জেরার পর জানা গেলো যে রুমনকে ওই ঘরের দিকে যেতে দেখা গিয়েছিল। ছেলে বৌমাকে এমন কি বিমলাকে তার জন্যে অনেক কথা শুনতে হয়েছিল সেদিন। তার পর থেকে দাদুর ঘরে লুকিয়ে যাওয়াও বারণ হয়ে গেল রুমনের।  

আজ প্রায় ছ'মাস হলো রুদ্র রায় গত হয়েছেন। সেই ঘরে যাবার আর কারো কোনো বিধি নিষেধ নেই। রুমন এখন আট। একদিন দাদুর ঘরে খেলতে খেলতে খাটের কোণে হটাৎই সেই বহু আকাঙ্খিত পেনটা ধুলোমাখা অবস্থায় পরে থাকতে দেখে।  

হাতে তুলে রুমন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে পেনটার দিকে।



Friday, January 29, 2021

এপ্রিল ফুল 

সুভাশিষ 

অফিস থেকে ফিরে আমার একটাই কাজ। হাত মুখ ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে, পাজামা পরে টিভির সামনে এক কাপ চা নিয়ে বসা, আর খবরের চ্যানেল দেখা, সন্ধ্যে আটটা থেকে রাত এগারোটা পর্যন্ত।  তখন কেউ বিরক্ত করুক ভালো লাগে না। সেটা আমার বন্ধুরা জানে, তাই সাধারণত কেউ ওই সময় বাড়িতে আসে না বা ফোন করে না। 

সেদিন হটাৎ সুবিমল এসে হাজির। হাতে মিষ্টির ঠোঙা। ও নাকি বিএমডাব্লিউ কিনেছে তার পুজো দিয়ে এলো। আমি তো অবাক, কারণ ওর এলেম অজানা নয়। বললাম গাড়ি দেখা, বললো কাল নেবো। 'কাল আমার সাথে তোকে যেতে হবে', আমি এক কথায় রাজি । অফিস বাদ দিয়ে ওর সাথে গেলাম। 

অনেক ঘুরে এক সাইকেলের দোকানে ঢুকে একটা নতুন সাইকেল ডেলিভারি নিলো। কোথায় বিএমডাব্লিউ? আমার মাথায় রক্ত উঠে গেলো, নেহাত ছোট বেলার বন্ধু। বললাম এটা কি হলো? 

সুবিমল বললো এপ্রিলফুল।  ফেব্রুয়ারি মাসে এপ্রিলফুল? রাগে আমার মাথায় আগুন জ্বলে উঠলো। 

ও বললো তোর তো প্রতিদিনই এপ্রিল ফুল ডে। 

কেন? 

ওই খবরের চ্যানেল গুলো তো তোকে প্রতিদিন এপ্রিলফুল করছে। 


Friday, January 1, 2021

 

কুড়ি কিম্বা একুশ শুধুই একটি সংখ্যা,

দিনতো সেই আসবে যাবে

মনের ভেতর থাকবে জমে আনন্দ বা শঙ্কা।

নতুন বছর প্রথম দিন, উত্তেজনায় যায় ভেসে,

ধীরে ধীরে যায় হারিয়ে

গতানুগতিক জীবনধারা দিনগুলিতে যায় মিশে।

আজকে থেকে ভাবনাগুলো একে বারেই বদলে দেব,

প্রতিদিন কে নতুন ভাবে,

অনন্ত এক সম্ভাবনায় মুহুর্তকে সাজিয়ে নেব।  

Friday, April 10, 2020

লকডাউন
কিছুদিন ধরেই শুনছিলাম, চীন এ নতুন ভাইরাস এসেছে, নানা রকম গুজব ছড়াচ্ছে, কেউ বলছে বাঁদুড় থেকে এসেছে, কেউ আবার অন্য কথা বলছে ।  নেট এ, হোয়াটসআপ এ না না রকম ছবি ছড়িয়ে পড়ছে। করোনা নিয়ে নানা জোকস ও শেয়ার হচ্ছে।  তখন ভাবি নি আমাদেরও এক চরম পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। হটাৎ করে সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করা হলো। সব বন্ধ। কেউ বাড়ির বাইরে যেতে পারবে না।  প্রথম প্রথম বেশ উত্তেজনা লাগছিলো, সেই কর্ম জীবন শুরু হওয়ার পর কোনোদিন এমন ভাবে বাড়িতে থাকতে পারিনি।  প্রথম ১৫ দিন বেশ কাটলো। আবার ১৫ দিন ঘোষণা হলো। জীবনের সব দিন বা সব মুহূর্ত ভালো কাটবে তেমন কোনো নিয়ম নেই। যদিও ভালো মন্দ কেমন কাটবে অনেকটা আমাদের মনের ভেতরের ব্যাপার। কিন্তু দার্শনিক কথা সব সময় ভালো লাগে না, বিশেষ করে সময় খারাপ গেলে। ঘরে বসে অফিসের কাজ, যোগাযোগ সব মোবাইল নির্ভর।  জিনিস না থাকলেই তার মর্ম বোঝা যায়, সেটা বুঝলাম যখন একদিন সকালে মোবাইল লকডাউন ঘোষনা করলো। আঙুলের চাপ নিতে না পেরে করলো চোখ বন্ধ। একেই বন্দি জীবন, তার উপর এই দুর্ঘটনা, সব যোগাযোগ ছিন্ন। ভীষণ রাগ হলো, কিন্তু কিছুই  করার নেই। এই পরিস্থিতি তে মানুষ অন্যের উপর দোষ দিয়ে একটু শান্তি পায়। একটা মূল্যবান নির্জীব বস্তুর উপর আর কি রাগ দেখাবো। দিশেহারা অবস্থা। ঠিক তখন দেখি একটা আরশোলা চিত হয়ে শুয়ে হাত পা ছুঁড়ছে, মনে মনে বললাম এমন তো আমার করার কথা, তোমার কি হোলো? একটা লাল পিঁপড়ে পায়ে কুটুস করে কামড়ে বলে নিজের চড়কায় তেল দাও। পিঁপড়ে! আমাদের থেকে কমজোর জীব, সে মানুষ বা অন্য প্রাণী  যাই হোক, আমরা শাস্তি দিতে পারলে ভীষণ আনন্দ পাই।  সেই কারণেই পিঁপড়েটাকে আঙ্গুল টিপে মারতে যাব, একটা বোলতা আমার দিকে একপাক ঘুড়ে শাশিয়ে গেল, খবরদার! মাথা নিচু করে বাঁচতে গিয়ে, টেবিলের কোণায় খেলাম গুতো, সামলে নিয়ে চেয়ারে বসতেই, হাতল ভেঙ্গে পড়লাম মেঝেতে, মাটিতে পরে থাকা পিন সোজা গিয়ে ফুটলো হাটুতে, ব্যাথায় আঃ করতে গিয়ে মুখ হয়ে গেল হা, বন্ধ করতেই কামড় পড়ল জিবে, রাগের চোটে হাত ছুড়তেই, টেবিলে থাকা জল ভর্তি গ্লাস পড়ল মাটিতে। পোছা আনতে গিয়ে পিছলে পড়লাম আবার, কোমড়ে লাগল চোট, উঠে দাঁড়াতেই, পায়ে আটকে পাজামার দড়ি গেল ছিঁড়ে। ভাবছি আর কত, মনের ভেতরে কে যেন ম্যারাথন দৌড়াচ্ছে, অথবা কেউ বসে হাতুরি দিয়ে অনবরত পাথর ভেঙ্গে চলেছে, থামছে না, মনে হচ্ছে মাথাটা বিগব্যাং এর মত ফেটে চারিদিকে গ্রহ নক্ষত্র সব ছড়িয়ে পড়বে। 
এভাবে চলতে পারে না, এর শেষ নেই। এর থেকে বেরোতে হবে, জানি এবার ভেতরে দেখার সময় এসেছে, যখন বাহ্যিক পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়, আর কোনো উপায় থাকে না, বোধহয় এক ধাপ এগোবার সময় তখনই আসে। ধীর পায়ে ব্যালকনিতে গিয়ে দাড়ালাম, বসন্তের মলয় বাতাস ভালবাসা বুলিয়ে দিল গায়ে, মাধবিলতার ফুলের বাহার ছুঁয়ে গেল মন, গন্ধরাজের সুবাস, নীল আকাশ, কোকিলের ডাক, সবাই বলল আজ থাক, এস আমাদের কাছে, শান্ত হয়ে বসো কিছুক্ষণ, বুকে ভরে শ্বাষ নাও । চলাফেরার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠো, মনের তো সীমা নেই, ছোটাও তাকে, অসীমের মাঝে খুঁজে পাও নিজেকে। দেখলাম আরশোলাটা অনেক চেষ্টার পর, সোজা হয়ে, এগিয়ে চলছে নিজের গন্তব্যের পথে।
শুভাশিষ

Thursday, March 21, 2019

মেট্রো ডায়েরি - ৪


আজ মেট্রোতে সাধারণ দিনের তুলনায় একটু ভিড় কম থাকায়, বসার জায়গা পেয়ে গেলাম। বসেই মোবাইল পকেট থেকে বের করে সোশাল নেটওয়ার্কে হাত বোলাতে লাগলাম, এ এমন এক স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে যে কি আর বলবো, ঠিক আগে দেখতাম কেউ কেউ বাস বা মেট্রো তে উঠেই হনুমান চালিশার ছোট বই বের করে পাঠ করতো, অনেকটা তেমন, বার বার একই ছবি একই খবর উপর নিচে করতে থাকা, যতক্ষণ নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। যাইহোক, কিছুক্ষন বাদে মোবাইল পকেটে রেখে, বই বেরকরলাম। পড়ার ফাঁকে উল্টোদিকের সিট্ এ চোখ পড়তেই আঁতকে উঠলাম, একটি কম বয়সী মেয়ে বসে আছে, তার সামনে কেউ একজন দাঁড়িয়ে থাকায় তার হাত টা শুধু দেখতে পাচ্ছিলাম । একটু ঝাকুনিতে তার গলা ও মুখের কিছুটা গোচরে এলো। এ কি? এই অবস্থায় কেউ বাইরে আসে? গত সপ্তাহে নার্সিংহোমে এমন এ একজন কে দেখেছিলাম, জন্ডিসের রুগী। সারা শরীর হলুদ হয়ে গেছে , মেয়েটির ও একই অবস্থা। এই সময় তো একদম বেরহওয়া উচিত নয়।  কি এমন অসুবিধা যে এই পরিস্থিতিতেও কাজে যেতে হবে। মানুষের জীবনে কত বাধ্য বাধকতা থাকে আমরা তার কতটুকু জানি। তার পরিস্থিতির কথা ভেবে কষ্টই পাচ্ছিলাম, মনে মনে তার সুস্থতার কামনা করছিলাম। কয়েকটা স্টেশন পর মেয়েটি উঠে আমার দিকের দরজার কাছে এগিয়ে গেলো, পরের স্টেশন এ নামার জন্যে। এখন কাছে থেকে দেখতে পেলাম মেয়েটি কে।
একদম ভুলে গেছিলাম যে গতকাল হোলি ছিল।

অণুগল্প